বান্দরবানে অর্ধেকের বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে গত ২০ দিনে

fec-image

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ৯৬তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। ৮মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। আর পার্বত্য জেলা বান্দরবানে এই মহামারী শনাক্ত হয় ১৫এপ্রিল।

আক্রান্তের সংখ্যার তথ্য বিশ্লেষন করে দেখা যায়, ১১জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বান্দরবানে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৭৭জন। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি আক্রান্ত হয়েছে গত ২০দিনে।

এই সময়ের মধ্যে করোনা সংক্রমণ শরীরে নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং অপর একজন মৃত্যুর পর নমুনা টেস্টে করোনা শনাক্ত হয়। এর আগের ৫০দিনে (১৫এপ্রিল থেকে ৪জুন) পর্যন্ত আক্রান্ত হয় ২৮জন। তবে দেশের অন্যান্য আক্রান্ত এলাকার তুলনায় বান্দরবানে মৃত্যুর হার অনেক কম।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে এই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭৭ জন। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার লক্ষ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল ১হাজার ৬৭ জনকে। এরমধ্যে ৯৮০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা ১১০ জনের মধ্যে ৯৯ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে বান্দরবানে প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১০জুন বান্দরবান সদর উপজেলা ও রুমা উপজেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়। এখানে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য উপজেলায়ও সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে পাশের উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে গত ৬ জুন জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলাকে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে বান্দরবানে করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিশেষ করে ঈদের আগের সপ্তাহ থেকে জ্যামিতিক হারে বান্দরবানে বেড়েছে করোনা। আক্রান্ত থেকে বাদ যায়নি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, কাউন্সিলর, ডাক্তারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

প্রশাসনের একাধিক সূত্র মতে, বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য প্রবাসী না আসলেও ঈদের আগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে বান্দরবানে মূলত করোনা ছড়িয়েছে। আর গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলার সর্বত্র বিস্তার ঘটছে। এসব ব্যক্তিরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সর্বত্র বিচরণ করার কারণে বান্দরবানে বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

জেলার প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে আর জেলা সদরে প্রথম আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলে একটি পোষাক কারখানার শ্রমিকের। পরে ওই কারখানার একাধিক শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যার কারণে এখন শুধুমাত্র বান্দরবান জেলা শহর নয়; দূর্গম রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলার মানুষ প্রতিদিন করোনা আতঙ্কে দিনযাপন করছে।

উপজেলার মধ্যে রোগীর চিকিৎসা ও নমুনা সংগ্রহে নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে গেছে। অন্যদিকে আলীকদম উপজেলায় এই পর্যন্ত মাত্র ১জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তিনিও ঢাকা ও চকরিয়া বিচরণ করে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অং সুই প্রু মারমা জানান, দেশের অন্যান্য এলাকার ন্যায় বান্দরবানেও বাড়ছে করোনা। স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসক এই মহামারীর সংক্রমণ রোধে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এই সংক্রমণ রোধে প্রথমেই মানুষকে সচেতন হতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে এবং ঘরে থাকার মাধ্যমে এর প্রতিরোধ সম্ভব।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আক্রান্ত, করোনা, বান্দরবানে
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − 3 =

আরও পড়ুন