বান্দরবানে শিমের ভালো ফলনে আশাবাদী চাষিরা

fec-image

বান্দরবানে এবার শিমের ভালো ফলনের আশা করছে কৃষকরা। পাহাড়ের ঢাল আর সমতল জমিতে চাষ হয়েছে শিমের। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাস এর কারণে কৃষি পণ্যের দাম বৃদ্ধি আর মধ্যসত্বভোগীদের কার‌ণে ন্যায্য দাম থেকে প্রতি বৎসর বঞ্চিত হন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। তবে এই বছর শিমের ভালো ফলনের আশাবাদী চাষিরা। করোনাভাইরাসের মহামারী সকল দুর্যোগ কাটিয়ে এই বছর শিমের ভালো ফলন পাবে বলে আশা করছেন চাষিরা। ‌

স‌রেজ‌মিন ঘু‌রে দেখা গে‌ছে, জেলা সদরের রেইচা, গোয়ালিয়া খোলা, ক্যামলং, লাঙ্গিপাড়া, মাঝের পাড়া, সুয়ালকসহ বিভিন্ন পাহাড়ে এখন কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছেন শিম গাছের পরিচর্যা করে। এবছর বান্দরবানে বিভিন্ন প্রজাতির শিম আবাদ হয়েছে।

চাষিরা জানান, ভাদ্র মাস থেকে শিম চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করা হয়। কার্তিক মাসে বীজ বপন করা হয়। রোপ‌নের ২১-২৫দিনের মধ্যেই গাছ লতায় লতায় ছেয়ে যায়। এরপর ফুল আসে, তা থেকে ফল। এ বছর শিমের ভালো উৎপাদন করতে পারবে বলে কৃষকরা আশাবাদী।

গোয়ালিয়া খোলার শিম চাষি মংচিং মারমা ব‌লেন, ‘গত দু’বছর ধ‌রে আ‌মি রেইচা গোয়া‌লিয়া খোলা সড়‌কে শিম চাষ ক‌রছি। গতবছর ফলন ভালো হ‌য়ে‌ছিল। এবছরও ফলন ভালো হ‌বে বলে আশা করছি। শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই শিমের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

আরেক শিম চাষি হ্লাথুই প্রু বলেন, ‘এখানে শিমের ফলন ভালো হয়। গত বছর আ‌মি তিন কা‌নি জ‌মিতে শিম চাষ করে‌ছিলাম। এবার ৫ কানি জ‌মিতে করে‌ছি।’ অন্য সব‌জি থেকে শিমে বে‌শি লাভ হয় বলেও জানান তি‌নি।

বান্দরবানের শিম ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন এখানে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিম সরবরাহ করে প্রচুর মুনাফা লাভ করে।

এ বিষ‌য়ে পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুল ল‌তিফ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে রেইচা, গোয়া‌লিয়া‌খোলা, মা‌ঝের পাড়াসহ বি‌ভিন্নস্থান থে‌কে শিম সংগ্রহ ক‌রে দেশের বি‌ভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করি। গতবছর ১১-১২শ টাকায় শিমের মণ বি‌ক্রি করলেও এবার আরো বেশি ভালো বিক্রি করতে পারবো বলে আশাবাদী।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গত বছরের চেয়ে এবছর শিম উৎপাদন ভালো হবে বলে মনে করছেন তারা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৫৫ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ৭ হাজার ৯৫৪ মেট্রিকটন। এবার ৬০০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে আর এর বিপরীতে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিকটন শিম উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বান্দরবানের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু শিম চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকরা শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাদের নানা সহায়তা দিচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। বাজারে সবজির মূল্য ভালো থাকাতে এই বছর ভালো মূল্য পাবে বলে আশাবাদী কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + four =

আরও পড়ুন