বান্দরবান নীলাচল পানি সরবরাহ কেন্দ্র: এক বছরের প্রকল্প বেড়ে ৭ বছর হলেও কাজ শেষ হয়নি

fec-image

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে পানি সরবরাহ প্রকল্প সাত বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল (২০১৪-১৫) এক বছর। কিন্তু এরপর তিন দফায় পাচঁ বছর সময় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ কাজ শেষ করতে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যার কারণে ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্প এখন ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় গিয়ে দাড়িয়েছে।

বান্দরবান নীলাচল পর্যটন স্পটে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক ও আশপাশের মানুষের পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৪ সনে এই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী পানি সরবরাহের এই প্রকল্পটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে এই পানি সরবরাহ কেন্দ্র থেকে মানুষ কোন প্রকার উপকৃত হয়নি। এতে করে সরকারের বিপুল টাকা গচ্চা যাওয়ার পথে। বর্তমানে প্রকল্পটি পরিত্যাক্তের ন্যায় পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে মেসার্স রতন সেন তঞ্চগ্যা নামীয় লাইসেন্সে এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছিলেন ঠিকাদার মাহাবুবুর রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা তৎকালীন বির্তকিত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহারাব হোসেন ও সদর উপজেলা কর্মকর্তা মনজেল হোসেন এর খামখেয়ালীপনার কারণে প্রকল্পের কাজ চলেছে কচ্ছপ গতিতে।

কাজের ধীরগতি নিয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মাহাবুবুর রহমান জানান, নীলাচলের নিচের ঝিরিতে বাধঁ নির্মাণ করে পানি পরিশোধানাগার এবং জলাধার সংরক্ষণ করে পানি সরবরাহ করার উদ্যোগ ছিল জনস্বাস্থ্য বিভাগের। কিন্তু যে বরাদ্দ ছিল তা দিয়ে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই আপাতত কাজ বন্ধ আছে। নতুনভাবে বরাদ্দ পেলে পুনরায় কাজ শুরু হবে।

এদিকে নীলাচল এলাকার বাসিন্দা কল্পনা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, পানি প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল দেখেছি। কিন্তু ওই ট্যাংকি থেকে আমরা একবারও পানি খেতে পারিনি। কাজ শেষ হয়েছে কিনা তাও জানা নেই তার।

কাজ শেষ করতে না পারার বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খোরশেদ আলম জানান, প্রকল্পটির জন্য আমরা ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চেয়েছিলাম। বিপরীতে পেয়েছি ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। বাকী টাকা বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা যাবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের কাছে পানি সরবরাহের লক্ষ্যে হাউস স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পানির হাউস, ঝিরির কাজ শেষ হয়েছে।

সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মনজেল হোসেন জানান, প্রায় পচাত্তর ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় কাজ এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। প্রকল্পে এখনো পানির পাম্প মেসিন, ইলেক্ট্রনিক্স কাজ, পাইপ লাইনসহ কিছু কাজ বাকী আছে।

এই প্রসঙ্গে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা আচার্যি বলেন, ২০১৫ সালের জুনে প্রকল্পটির ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়। এরপর প্রকল্পটি শেষ করতে আরও প্রায় এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বাজেট চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকটি চিঠি পাঠানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + 17 =

আরও পড়ুন