ভাঙ্গা সড়কের দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাবে জনগণ: কউক চেয়ারম্যান-মেয়র

fec-image

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কসহ খানা-খন্দে ভরা সকল সড়কের দুর্ভোগ থেকে জনগণ দ্রুত মুক্তি পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) কক্সবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে ‘কক্সবাজার শহরের জনদুর্ভোগ ও বেহাল সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবীতে’ আয়োজিত নাগরিক সভায় এই আশ্বাস দেন। নাগরিক সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। সঞ্চালনা করেন অধিকার আন্দোলনের নেতা ইমরুল কায়েস।

নাগরিক সভায় বক্তারা বলেন, শহরের প্রধান সড়কসহ সকল সড়ক ৯০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। একটিও চলাচল উপযোগী নেই। মানুষের দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা ভীষণ কষ্টে আছে। কউক চেয়ারম্যান বার বার আশার বাণী শুনিয়েছেন, কিন্তু সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখিনি। রাস্তার কারণে পর্যটকেরা কক্সবাজার বিমুখ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধৈর্যের সীমা আর নেই। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাই সড়ক সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনে নেমে এসেছে। আর আমরা আশ্বাসের বাণী নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। নয়তো জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কক্সবাজারে লাখো কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে বলে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে। কিন্তু সেই উন্নয়ন থেকে কক্সবাজারবাসী কতটুকু উপকৃত হচ্ছে। যে উন্নয়ন থেকে নাগরিকরা লাভবান হবে না সেই উন্নয়ন কতটুকু যৌক্তিক। আমরা চায়, নাগরিক অধিকার দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত নাগরিক সমস্যার সমাধান হবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত নাগরিক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবো।

নাগরিক আন্দোলনের নেতারা বলেন, কউক চেয়ারম্যান আমাদেরকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার গল্প শুনিয়েছিলেন। আমরা আর সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার স্বপ্ন দেখতে চায়। আমরা চায়, সেই ১৫ বছর আগের স্বাস্থ্যসম্মত কক্সবাজার। আমরা চায়, দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি।

তারা আরও বলেন, জাগ্রত না হওয়ার কারণে নাগরিকরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে যদি প্রত্যেকটি দাবি আদায়ের জন্য নাগরিকরা সোচ্চার হয়, তাহলে কেউ দায় এড়াতে পারবে না। আমাদেরকে অধিকার বঞ্চিত করতে পারবে না।

সভায় বক্তারা বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। কিন্তু এখানকার দায়িত্বরতদের সমন্বয়হীনতার কারণে কোন উন্নয়নই হচ্ছে না। সমন্বয়হীনতার কারণে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে এক টেবিলে বসে আগে সর্বসম্মত হতে হবে। সমন্বয় করতে হবে। তারপর কক্সবাজারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পৌরসভার একটি নালা-নর্দমাও ঠিক নেই। ১০ মিনিট বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি উঠে যায়। সুপেয় পানির সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বলতে গেলে, কঠিন দুর্ভোগের সময় পার করছে নাগরিকরা। এসব সমস্যার সমাধান দরকার। একজন আরেকজনের উপর দায় না চাপিয়ে সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আরেকটু সময় দিন, কক্সবাজারবাসীকে শতভাগ উন্নয়ন বুঝিয়ে দেব। সমালোচনা না করে কাজ করার পরামর্শ দিন, শহরটাকে সাজানোর জন্য। জনগণ যে সম্মান আমাকে দিয়েছে তা আমি ফিরিয়ে দিব। খুব শিগগিরই পৌর এলাকার উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, জনগণ রাস্তার কারণে কষ্ট পাচ্ছে। এটা আমিও অনুভব করি। আমিও ভুক্তভোগী। আজ (সোমবার) সকাল থেকে আপাতত খানা-খন্দ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে দুর্ভোগ কমে যাবে।

বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, প্রথম আলোর সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস রানা, সাংস্কৃতিক কর্মী তাপস রক্ষিত, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাসেদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, দৈনিক হিমছড়ির সম্পাদক হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু, নাগরিক আন্দোলনের নেতা এইচএম নজরুল ইসলাম, প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা, পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এড. রনজিত দাশ, সিভিল সোসাইটিজ সভাপতি সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, দুর্ভোগ, ভাঙ্গা সড়কের
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =

আরও পড়ুন