অজিত দোভালের মুখে মুসলিমপ্রীতির অহিংস বক্তব্য

fec-image

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল দেশের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। ভারতকে একটি ‘বিশাল জাহাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকই সেই জাহাজের নাবিক এবং প্রত্যেকের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা।

মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দোভাল স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের শক্তি ও নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা একসাথেই তরী পার হব অথবা একসাথেই ডুবব।” সমাজের ভেতরের বিভাজন সমগ্র দেশকেই দুর্বল করে দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ১৪ জন বিশিষ্ট মুসলিম পেশাজীবী অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিল্পপতি, শিক্ষাবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিকরা।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাফর সারেশওয়ালা এই বৈঠককে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, দোভাল অত্যন্ত ধৈর্য ধরে প্রত্যেকের কথা শুনেছেন। সারেশওয়ালা বলেন, “আমরা সমান সুযোগের দাবি জানিয়েছি। আমরা চাই মুসলিমদের প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না, আবার বিশেষ কোনো সুবিধাও দেওয়া হবে না; বরং সবার জন্য সমান ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে।”

আরেকজন প্রতিনিধি জহির কাজী বলেন, “এ ধরণের নিয়মিত সংলাপ ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এবং সম্পর্কের সেতু বন্ধনে সহায়তা করে।”

আলোচনাকালে অজিত দোভাল গত এক দশকে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীতে মুসলিম যুবকদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। একে তিনি একটি ‘নীরব পরিবর্তন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দোভালের মতে, মুসলিম তরুণদের সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তায় যুক্ত হওয়া দেশের প্রতি গভীর আস্থা ও জাতীয় সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানো গুজব এবং উগ্রবাদী প্রচারণার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তিনি মুসলিম নেতৃবৃন্দকে উগ্রবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ‘প্রথম সারির প্রতিরক্ষা’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপ এবং সচেতনতা বাড়ানোই মূল পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত মুসলিম জওয়ানদের বীরত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশের প্রতি মুসলিমদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, এই বাস্তবতাই তাদের জন্য যোগ্য জবাব।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিক সামিনা শেখ বলেন, “তিনি (দোভাল) কেবল আমাদের সমস্যাগুলো মন দিয়ে শোনেনইনি, বরং উত্থাপিত বিষয়গুলোর সমাধানের পথও বাতলে দিয়েছেন।”

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন