ভারতে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীতে পানি বাড়ার শঙ্কা

fec-image

ভারতের বৃহৎ অংশজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির উত্তর, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য ভাটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আইএমডি জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী তিন থেকে চার দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রপাত এবং কোথাও কোথাও তীব্র বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে আসাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নেমে এসে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়াতে পারে। একইভাবে ত্রিপুরার বৃষ্টির প্রভাবেও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে রাজধানী দিল্লি এবং এর আশপাশের এলাকাতেও আবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। দিল্লি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। টানা বর্ষণে নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। উত্তরাখণ্ডে অতিভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিহারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে আইএমডি। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড ও ওডিশায় বজ্রপাতসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মধ্য প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আইএমডি আরও জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাজস্থান ও পাঞ্জাবের বাকি অংশেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নিচু এলাকা ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ, ভারত, সীমান্তবর্তী নদী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন