চীনা গণমাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চায়না সফরের নিউজ


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চায়না সফর চায়নার জাতীয় ও শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে শীর্ষ নিউজ হিসেবে স্থান পেয়েছে। তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসলেও এখন পর্যন্ত চাইনিজ টপ নিউজ আউটলেট গুলোর ট্রেন্ড ও শীর্ষ নিউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চায়না সফরের নিউজ শোভা পাচ্ছে।
এগুলোর মধ্যে চায়নার বিখ্যাত গ্লোবাল টাইমস, পিপলস ডেইলি, চায়না ডেইলি, সিংহুয়া, সিসিটিভি প্রভৃতির অনলাইন ভার্সন সার্চ করে দেখা গেছে সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিউজ টপ এবং ট্রেন্ডে অবস্থান করছে। তাদের টপ নিউ যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চাইনিজ প্রেসিডেন্টের হাস্যজ্জল করমর্দনের ছবি বড় করে দেয়া হয়েছে। এ সকল নিউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চাইনিজ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। নিউজ এর ভাষায় বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি সুস্পষ্ট।
এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চায়না সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। চাইনিজ বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সরবরাহকৃত সংবাদ বেশিরভাগ গণমাধ্যমই অনুসরণ করেছে। এই নিউজে বলা হয়েছে:
” নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে চীন ও বাংলাদেশের অঙ্গীকার ঘোষণা
সিনহুয়া:
বেইজিং, ২৬ জুন (সিনহুয়া) — চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, যিনি সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন।
উভয় নেতা নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎমুখী চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন।
শি উল্লেখ করেন যে, চীন সর্বদাই চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অবিচল রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সার্বিক দিকনির্দেশনার প্রতি চীন তার অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হবে না এবং সর্বদা বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও ভালো অংশীদার হিসেবে থাকবে।
এই বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এর ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, সিপিসি চীনা জনগণকে দারিদ্র্য ও দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং চীনা আধুনিকীকরণের পথ প্রশস্ত করতে ঐক্যবদ্ধ ও নেতৃত্ব দিয়েছে। এর শক্তি নিহিত রয়েছে স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতার মধ্যে এবং জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভবিষ্যৎকে দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে রাখার মধ্যে,” শি বলেন।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা সমুন্নত রাখতে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করতে সমর্থন করে।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের শাসনকার্যক্রমকে সমর্থন করে এবং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলোতে সুশৃঙ্খল সহযোগিতার জন্য সুচিন্তিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে এবং সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে আগ্রহী।
শি বলেছেন, চীন স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং উপ-জাতীয় পর্যায়ে আদান-প্রদান করতে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগের জন্য চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, চীন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে প্রস্তুত, যাতে যৌথভাবে একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্ব এবং সার্বজনীনভাবে কল্যাণকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এবং দুই দেশের ন্যায্য অধিকার ও অভিন্ন স্বার্থ এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ আরও ভালোভাবে সমুন্নত রাখা যায়।
সিপিসি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানিয়ে রহমান বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি মূল্যবান ও বিশ্বস্ত অংশীদার এবং চীনের আধুনিকীকরণ বাংলাদেশের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ আধুনিকীকরণে সহায়তার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আদান-প্রদান জোরদার করতে, বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য, সংযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা ও বিনিময় বাড়াতে আশাবাদী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এক-চীন নীতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্বকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
মানবজাতির জন্য একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ সমাজ গড়ার রূপকল্প এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং কর্তৃক উপস্থাপিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান এবং যোগ করেন যে, বাংলাদেশ এগুলোকে পূর্ণ সমর্থন করে।
রহমান বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে চীনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের সুফল ও জাতিসংঘ-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে প্রস্তুত।
এখানে উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী তারক রহমান তার বক্তব্যে বেশ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এক-চীন নীতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্বকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।’ অতীতে কিছু চক্রান্তকারী ব্যক্তি কৌশলে তাইওয়ানের সাথে বাণিজ্যের ফাঁদ পেতে তারেক রহমান এবং বিএনপির সাথে চায়নার সম্পর্কের ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তাদের হীন কৌশলে বিএনপি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কূটনৈতিকভাবে। এবারের সফরে তারেক রহমান হয়তো সেই ভুলের মেরামত করেছেন শক্ত করে সেটা তার বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে।”
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত যৌথ ইশতেহার
বেইজিং, ২৬ জুন ২০২৬
১. গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রিমিয়ার মাননীয় মি. লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় মি. তারেক রহমান ২২ থেকে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনে সরকারি সফর করেন এবং চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ১৭তম বার্ষিক নিউ চ্যাম্পিয়নস সম্মেলন ২০২৬ (সামার ডাভোস)-এ যোগদান করেন।
সফরকালে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রপতি মাননীয় মি. সি চিনপিং, প্রধানমন্ত্রী মাননীয় মি. তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রিমিয়ার মাননীয় মি. লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রী মাননীয় মি. তারেক রহমানের সাথে আলোচনায় মিলিত হন। জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাননীয় মি. ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রী রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উভয় পক্ষ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়াদিতে গভীর মতবিনিময় করেন এবং ব্যাপক ঐকমত্যে পৌঁছান।
২. উভয় পক্ষ এই মত পোষণ করেন যে, ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে চীন ও বাংলাদেশ ক্রমাগত রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করেছে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব মজবুত করেছে এবং ফলপ্রসূ ব্যবহারিক সহযোগিতা পরিচালনা করেছে; এবং তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। চীনা পক্ষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সফলভাবে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অভিনন্দন জানায়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শাসনকার্যের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে এবং নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ আগে সব’ নীতি বাস্তবায়নকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশি পক্ষ বিশ্বাস করে যে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে আসবে। উভয় পক্ষ নবযুগে একটি চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎ সম্প্রদায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব উন্নীত করতে এবং দুই দেশ ও জনগণের জন্য আরও সুবিধা অর্জনে সম্মত হন।
৩. উভয় পক্ষ উচ্চ-পর্যায়ের মিথস্ক্রিয়ার গতিশীলতা বজায় রাখতে, শাসন অভিজ্ঞতার বিনিময় বাড়াতে এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হন। উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের একটি প্রক্রিয়া স্থাপনে সম্মত হন। উভয় পক্ষ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক ‘২+২’ সংলাপ প্রক্রিয়া অন্বেষণে সম্মত হন।
৪. উভয় পক্ষ তাদের স্ব স্ব মূল স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগ-সংক্রান্ত বিষয়ে পরস্পরকে দৃঢ় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ বা চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ এক-চীন নীতির প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং স্বীকৃতি দেয় যে বিশ্বে একটিমাত্র চীন রয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকার সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ যেকোনো রূপে ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’র দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনর্মিলন অর্জনে চীন সরকারের প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। চীন বাংলাদেশের সকল জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে এবং জাতীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাধীন উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণের পছন্দকে সম্মান করে।
৫. উভয় পক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং তাদের আধুনিকায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একসাথে কাজ করতে সম্মত হন। চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে আরও বৃহত্তর সমন্বয় সাধন করবে, বড় মাপের আইকনিক প্রকল্প এবং ‘ক্ষুদ্র মাপের ও সুন্দর’ জনজীবন উন্নয়ন প্রকল্প উভয়কেই এগিয়ে নেবে এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে, কৃষি আধুনিকায়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। চীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
৬. চীন রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা যৌথভাবে সমুন্নত রাখতে বাণিজ্য, ই-কমার্স, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা জোরদার করবে। বাংলাদেশ শতভাগ শুল্ক লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীনা উদ্যোগসমূহের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। উভয় পক্ষ মোংলা বন্দর সুবিধা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়ন যৌথভাবে এগিয়ে নিতে সম্মত হন।
৭. উভয় পক্ষ সংযোগ, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, তথ্য ও যোগাযোগ, সবুজ জ্বালানি, ফটোভোল্টাইক প্রযুক্তি, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হন। উভয় পক্ষ চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগসহ আঞ্চলিক সংযোগের নতুনতর বিকল্পসমূহ অন্বেষণে সম্মত হন।
৮. উভয় পক্ষ সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, হাইড্রোগ্রাফিক পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভাগাভাগিতে সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হন। চীনা পক্ষ তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (TRCMRP) তার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা ও সাহায্য প্রদান করবে এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করবে। উভয় পক্ষ সামুদ্রিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হন।
৯. উভয় পক্ষ বিনিময়, সফর ও প্রশিক্ষণসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হন। উভয় পক্ষ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে সম্মত হন।
১০. উভয় পক্ষ ২০২৫ সালে চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী এবং চীন-বাংলাদেশ জনগণের মধ্যে বিনিময় বর্ষের সফল উদযাপনের প্রশংসা করেন। তারা গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, শিক্ষা, চলচ্চিত্র, প্রকাশনা, যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হন। উভয় পক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে সমর্থন করবে। চীন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান অব্যাহত রাখবে। উভয় পক্ষ জনস্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যগত চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহারিক সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হন। বাংলাদেশ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইউনান প্রদেশের মতো উপ-জাতীয় পর্যায়ে চীনা সহযোগিতাকে স্বাগত জানায় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
১১. বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি সি চিনপিং কর্তৃক উত্থাপিত মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ সম্প্রদায় গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধারাবাহিক বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি প্রশংসা ও সমর্থন ব্যক্ত করে এবং চীনের সাথে সহযোগিতা পরিচালনায় সদা প্রস্তুত। চীন জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশকে আরও বৃহত্তর ভূমিকা পালনে সমর্থন করে এবং BRICS-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অংশীদার হওয়ার আবেদনকে সমর্থন করে। উভয় পক্ষ এই অঞ্চলে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি প্রকাশ করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় অঞ্চলের আরও অধিক দেশকে যোগ দিতে স্বাগত জানান।
১২. উভয় পক্ষ জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতির উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক নিয়ম দ্বারা সমুন্নত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খল দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে এবং একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব এবং সর্বজনীন কল্যাণকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন প্রসারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হন।
উভয় পক্ষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ফলাফল দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখতে এবং ফ্যাসিস্ট ও সামরিকবাদী পুনরুজ্জীবনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করতে সম্মত হন। উভয় পক্ষ কায়রো ঘোষণা, পটসডাম ঘোষণা এবং জাতিসংঘ সনদসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইনি দলিল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
১৩. বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর বিষয়টি সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে। চীনা পক্ষ সেই জনগোষ্ঠীকে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শের মাধ্যমে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সমর্থন করে। চীন তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া সহজতর করতে অব্যাহত থাকবে।
১৪. সফরকালে, উভয় পক্ষ উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক সহযোগিতামূলক দলিলে স্বাক্ষর করেন।
১৫. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ও তাঁর প্রতিনিধিদলের প্রতি উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে চীনা নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানান।
লেখক : সম্পাদক, পার্বত্যনিউজ
















