ভূমি কমিশন আইন ও কার্যক্রম নিয়ে এখনো অন্ধকারে পাহাড়ের মানুষ

fec-image

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ সম্পর্কে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ মূলত অজ্ঞাত। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশে ভূমি জরিপ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপ সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় অতি উৎসাহী উপজাতীয় নেতা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে উন্মুখ হয়ে উঠে। সদ্য স্বাধীন দেশে এমন উদ্ভট দাবি মেনে নিতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর সরকার।

সরকার উপজাতীয় নেতাদের এমন অন্যায্য দাবি পরিত্যাগের বিষয়ে নানানভাবে আলোচনা করেও ব্যর্থ হয়েছিল। বিকল্প পথে হাঁটতে শুরু করে উপজাতীয় কতিপয় বিপদগামী নেতা, ১৭৭২ সালে গঠন করে জেএসএস, ১৯৭৫ সালে গঠন করে সশস্ত্র শন্তিবাহিনী, শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি ও বেজে উঠে যুদ্ধের দামামা। সরকার দেশের অখণ্ডতা রক্ষার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা শক্তি বৃদ্ধি করেছিল কিন্তু সেনাবাহিনীর উপর ব্যাপক চোরাগুপ্তা হামলার কারণে সরকারকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।



পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য ঢালসরূপ ১৯৭৮-১৯৮২ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা হতে প্রায় দেড় লক্ষ বাঙালি পরিবারকে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাস জমিতে পুনর্বাসন করা হয়। প্রত্যেক পুনর্বাসিত পরিবারকে ২-৫ একর খাস জমি সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পুনর্বাসিত জনগোষ্ঠির উপর শান্তিবাহিনী ব্যাপক হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালায়, বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে তৎকালে প্রায় অর্ধেক বাঙালি জনগোষ্ঠি পার্বত্য চট্টগ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

বাকী অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তার কারণে ১৯৮৬ সাল হতে সেনা ছাউনির পাশে গুচ্ছগ্রামে কার্যত বন্দি করা হয়। এই সুযোগে বাঙালিদের ফেলে যাওয়া জমি উপজাতীয়রা দখল করে বসতি স্থাপন করে। শান্তিবাহিনীর হামলা ও হত্যাযজ্ঞে প্রায় ৩০ হাজার বাঙালি প্রাণ হারায়, ৪০ হাজার বাঙালি আহত হয়। বাঙালিদের মতো সাধারণ উপজাতিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যাপকহারে। ফলে বাধ্য হয়ে বিপুল সংখ্যক উপজাতীয় পরিবার নিরাপত্তার প্রয়োজনে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ ২ যুগের হানাহানি ও অশান্তির ইতি টানতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পন্ন হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম নিয়ামক ছিল অত্রাঞ্চলের ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চুক্তির আলোকে ২০০১ সালে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ প্রণয়ন করে, আঞ্চলিক পরিষদের ব্যাপক বাধার মুখে ২০১৬ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়।

আইন মোতাবেক বর্তমান কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ার উল হক সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে রাঙামাটি সার্কিট হাউসে কমিশন সভায় মিলিত হয়ে আগামী অক্টোবর হইতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে কমিশন শুনানীর কাজ শুরু করবে বলে পার্বত্যবাসীকে আশস্ত করেন।

প্রশ্ন হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের আওতায় সুবিধাভোগী পক্ষ-প্রতিপক্ষ এই আইন সমন্ধে কতটুকু জ্ঞাত? আমার ধারণা, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ লোক এই আইন সম্পর্কে অনাবগত। যারা এই আইনের আওতায় ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চায় কিংবা যারা এই আইনের আওতায় পড়বে, তারা যদি এই আইন ও আইনের রসায়ন না বোঝে তবে ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি কঠিন হবে।

এই আইনটি একটি প্রসিডিউরাল আইন, যার কোন সাবেসটেন্টিভ আইন নাই। এই আইনের মূল থিম ‘মানলে সুবুর- না মানলে মুগুর’।

প্রথমেই জানা যাক, এই আইনের ৩নং ধারায় প্রত্যেক জেলায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিশন গঠন হইবে তা (১) চেয়ারম্যান (একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি), (২) সদস্য-১ (আঞ্চলিক পারষদের চেয়ারম্যান বা তার প্রতিনিধি), (৩) সদস্য-২ (জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান), (৪) সদস্য-৩ (সার্কেল চিফ বা তার প্রতিনিধি), (৫) সদস্য-৪ (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বা তার প্রতিনিধি) সমন্বয়ে।

কমিশন আইনের ৭(৩) নং ধারায় বলা হয়েছে, ৫ সদস্যের মধ্যে চেয়ারম্যান ও অন্য ৩ জন সদস্য মিলে ৪ জনের উপস্থিতিতে কোরাম গঠিত হবে। তার মানে হলো, আঞ্চলিক পরিষদ বা সার্কেল চিফের মতামতের বাইরে কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকবে, চেয়ারম্যান কার্যত আনুষ্ঠানিক ব্যক্তি মাত্র, চেয়ারপার্সন নয়।

কমিশন আইনের ৬(ক)নং ধারায় বলা হয়েছে, পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, অবৈধ বন্দোবস্তী ও বেদখলকৃত ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত নিয়ম বা পদ্ধতিতে সমাধান করা হবে। প্রথাগত নিয়ম কোনো আইন দ্বারা স্বীকৃতি লাভ না করলে তা আইনে পরিণত হয় না। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত নিয়ম কোনো আইন দ্বারা সিদ্ধ নয়, তবে কমিশন কীভাবে প্রথাগত নিয়ম দ্বারা বিরোধের সমাধান করবেন?

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত নিয়ম মহামান্য হাইকোর্ট সাপোর্ট করে না, স্থানীয় দেওয়ানী-ফৌজদারী আদালত সাপোর্ট করে না। প্রথাগত নিয়মে বলা হয়েছে, দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়েরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ঠিকা কোর্ট ফি দিয়ে মামলা দায়ের করা যাবে। কিন্তু বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালত, ঠিকা কোর্ট ফি না মেনে দেশের প্রচলিত আইনে কোর্ট ফি দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রথাগত নিয়মে নাগরিক সনদ ও উত্তরাধিকারী সনদ হেডম্যানের সুপারিশে জেলা প্রশাসকগণ প্রণয়ন করবে, কিন্তু দেওয়ানী আদালত বলছে নাগরিক সনদ ও উত্তরাধিকারী সনদ বিধিমত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রণয়ন করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত নিয়মে হেডম্যানের সুপারিশ ছাড়া ভূমি রেজিস্ট্রি হবে না। কিন্তু আদালতের মাধ্যমে চুক্তি প্রবলের মামলা করে প্রচলিত নিয়মে হেডম্যানের সুপারিশ ছাড়াই ভূমি রেজেস্ট্রি সম্পন্ন করা সম্ভব।

তবে দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত নিয়মে কমিশন ভূমির বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি করবে তা সাধারণের বোধগম্য নয়। প্রথাগত নিয়মকে আমরা শ্রদ্ধা করি, তবে তা শুধু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জন্যই প্রযোজ্য, বাঙালি জনগোষ্ঠির জন্য প্রযোজ্য নয়।

কমিশন আইনের ১৬নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের উপর কমিশনের যে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ানী আদালতের ডিক্রি বা আদেশের সামিল হবে। ভুক্তভোগী কোনো পক্ষ কমিশনের আদেশে সংক্ষুব্ধ হতে পারবে না, কমিশনের আদেশ মেনে নিতে হবে, নতুবা দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ২২০ ধারা এবং ফৌজদারী কার্যবিধি-১৮৯৮ এর ৪৮০ ধারায় শাস্তি ভোগ করতে হবে, কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিশন করা যাবে না। এই ধারা এই আইনকে সংবিধানের ১০২ ধারাকে পদদলিত করেছে, যা অসীম ক্ষমতার নামান্তর।

কমিশন আইনের ১৯নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পক্ষ এই আইনের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হয় তবে তা আদালত অবমাননার অনুরূপ শাস্তি ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ এটি একটি অপ্রতিরোধ্য আইন।

কমিশন আইনের ২০নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি এই আইনের অধীন কোনো কমিশন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরল বিশ্বাসে কোনো কাজ করেন এবং উক্ত কাজের ফলে যদি কোনো পক্ষ বা প্রতিপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ কমিশনের যে কোনো কর্মচারী স্বেচ্ছাধীন কোনো পক্ষের উপর অন্যায় করলে তার প্রতিকার চাওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ প্রণয়নের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা জজ আদালত ও দেওয়ানী আদালত ছিল না। ২০০৮ সালে পার্বত্য তিন জেলায় দেওয়ানী আদালত ও আপিল আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেওয়ানী আদালতে হাজার হাজার মোকদ্দমা চলমান আছে, ভূমির বিরোধ নিয়ে কিংবা উপজাতি-বাঙালি জনগোষ্ঠির মাঝে পক্ষ-প্রতিপক্ষ হিসাবে বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে মামলা চলমান আছে। আপিল মামলা চলমান আছে। মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন চলমান আছে। তবে এসব বিরোধ আদালতে থাকবে, না কমিশনে নতুন করে আবেদনে যেতে হবে, তবে সেটা কমিশন আইনে পরিষ্কার করে বলা নাই।

যেখানে দেওয়ানী আদালত দেওয়ানী আইন-১৯০৮ মোতাবেক সকল দেওয়ানী বিষয়ের বিরোধপূর্ণ মীমাংসায় বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ভূমি কমিশনের সিদ্ধান্ত দেওয়ানী আদালতের ডিক্রির শামিল কেন হবে? দেওয়ানী আইন-১৯০৮ এর ১ম অধ্যায়ের ১(৩)নং ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে, তবে কমিশন আইন কীভাবে দেওয়ানী আইনকে ডিনাই করে অনুরূপ কার্যক্রম পরিচালিত করবে?

কমিশন আইনের ১১(১)নং ধারায় বলা হয়েছে, সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ অনুসারে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। ১১(৫)নং ধারায় বলা হয়েছে, সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে শপথ আইন-১৮৮৩ প্রযোজ্য হবে। কিন্তু সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাক্ষীকে কে কীভাবে জেরা করবে সে বিষয়ে কোনো কিছু বলা নেই, কারণ জেরা না করলে সাক্ষ্য আইনানুসারে মূল্যহীন। আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ কমিশনে আছে কিনা, প্রসিকিটর থাকবে কিনা, এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষ এখনও সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে।

সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে কমিশন যদি আঞ্চলিক পরিষদের ইশারায় কোনো সিদ্ধন্তে উপনীত হয় তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক শান্তি প্রক্রিয়া ও চলমান উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দুই যুগের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস ভুলে সকলে মিলে আজ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার দিকে ধাবমান পর্বত্যবাসী যে কোনো ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে যেন পুরনো রূপে ফিরে না যায়।

পার্বত্যবাসী হাজারও দুঃখ-বেদনাকে পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্নের দিকে ধাবমান। আমার জানা মতে, শত শত মামলা দেওয়ানী আদালতে চলমান, যা দখল-বেদখল নিয়ে উপজাতি-বাঙালিদের মাঝে মূল বিরোধ। এসকল দেওয়ানী মামলার ভবিষৎ কী হবে? এ সকল দেওয়ানী মামলা আদৌ দেওয়ানী আদালতে চলবে কি না তা অস্পষ্টই থাকছে। সব কিছু মিলে পার্বত্যবাসী ভূমির বিষয় নিয়ে শংকায়-উৎকণ্ঠায় দিনানিপাত করছে।

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালায় যেন বিচারক নিয়োগ, আইনজীবী নিয়োগ বা পক্ষ-প্রতিপক্ষের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যে কোনো পার্বত্যবাসী যেন ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। আমরা পার্বত্যবাসী আরো বেশি আশাবাদী হতে চাই, যেন ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আঞ্চলিকতা ও আইনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করে।

লেখক: আইনজীবী, রাঙ্গামাটি জজ কোর্ট

—————————————————————————————

মুক্তমত-এ প্রকাশিত লেখার বক্তব্য, বিষয়বস্তু ও তথ্য একান্তই লেখকের। পার্বত্যনিউজের সম্পাদকীয় নীতিমালা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য চট্টগ্রাম, পার্বত্য ভূমি বিরোধ, ভূমি কমিশন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × five =

আরও পড়ুন