মনোনয়ন পেয়ে উৎফুল্ল কুজেন্দ্রলাল: হতাশ হলেও আশা ছাড়েন নি যতীন্দ্রলাল

1485998_5323_o

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ২৯৮ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে উৎফুল্ল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা। খবর পেয়ে তার সমর্থক নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ৩০ কেজি মিষ্টি বিতরণ করেন। অন্যদিকে একদিন আগেও নিশ্চিত মনোনয়ন হঠাৎ হাতছাড়া হওয়ায় বেদনায় মুষড়ে পড়েছেন বর্তমান এমপি যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরার সমর্থকরা। তিনি নিজেও হতাশায় মূহ্যমান। বুঝতে পারছে না কীভাবে কি হয়ে গেল। অনেক কিছু অনুভব করতে পারলেও মুখ ফুটে তা বলতে পারছেন না। তবে তিনি মনে করেন এখনো সময় শেষ হয়ে যায় নি। প্রধানমন্ত্রী সব জানেন। তিনি চাইলে সব সম্ভব।

শুক্রবার সন্ধ্যাটি ছিল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের জন্য একটি অবিস্মরণীয় ক্ষণ। স্বপ্নের এ ক্ষণটির জন্য সারাদিন যখন অপেক্ষার প্রহর গুণছিল সমগ্র বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের হাজার হাজার মনোনয়ন প্রার্থী। সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে সৈয়দ আশরাফ যখন দেশের ৩০০টি আসনের প্রাথমিকভাবে চুড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা দিচ্ছিল ঠিক তখন খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী অপেক্ষা করছিল টেলিভিশনের সামনে। খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় ছিল তখন নেতাকর্মীতে ভরপুর। সৈয়দ আশরাফের ঘোষণায় যখন ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনে যখন কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেয়া হলো তখন নেতাকর্মীরা উল্লাসে মেতে ওঠে। কুজেন্দ্রর সমর্থকরা বিপুল পরিমাণ মিষ্টি এনে একে অন্যকে খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকে।

এর কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খাগড়াছড়ি আসনে এক চ্যানেলে বর্তমান সংসদ সদস্য যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা, আবার অন্য চ্যানেল কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার নাম স্ক্রলে দেখাচ্ছিল তখন খাগড়াছড়িতে নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে প্রথমআলো, কালেরকণ্ঠ, মানবজমিনসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ ও জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে যতীন্দ্রর নাম আসলে বিভ্রান্তির মাত্রা চরমে ওঠে। সর্বত্র আলোচনার ঝড় ওঠে। হোটেল রেস্তোরাসহ বিভিন্ন স্থানে কেউ বলে কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা আবার কেউ বলে যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা মনোনয়ন পেয়েছেন। মূলত কে পেয়েছেন এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে জেলার সাংবাদিকবৃন্দও।

এ বিষয়ে বর্তমান সাংসদ যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ৮.৩০টায় জানান, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি কনফার্ম।

অপরদিকে, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, এ আসনে কে মনোনয়ন পেয়েছে তা কেন্দ্র হতে কোন চিঠি না আসা পর্যন্ত আমি কোন মন্তব্য করতে পারব না। জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাই মনোনয়ন পেয়েছেন এবং কেন্দ্র হতে জেলা আওয়ামীলীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক মংশিপ্রু চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি গ্রহণ করেছেন এবং খাগড়াছড়িতে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত চিঠি পাওয়ার পর বর্তমান সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার সাথে যোগাযাগ করা হলে তিনি রাত ১১টায় পার্বত্যনিউজকে জানান, গতকাল পর্যন্ত আমার নাম চুড়ান্ত ছিল। কিন্তু মংশিপ্রু চৌধুরী ঢাকায় এসে আমি নির্বাচন করব না বলে জানিয়ে কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার নাম ঘোষণা করিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমি দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখি কুজেন্দ্রর লোকজন টাকা নিয়ে ঘুরছে। এরপর কি থেকে কি হয়ে গেল, আমার কাছে কোনো প্রমাণ তো নেই তাই আমি কিছু বলতে পারবো না। আমাকে জানানো হলো আমি নমিনেশন পাচ্ছি না। আবেগঘন কন্ঠে তিনি বলেন, আসলে আমার নামে নমিনেশন তোলা হয়েছিল কিন্তু আমি অসুস্থ থাকায় তা জমা দেয়া হয়নি। তবে এটাও কেনো সমস্যা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই গিয়েছিলাম। তিনি চাইলে আমি জমা দিতাম। যাই হোক আমার শরীরও ভাল না। যা হয়েছে ভালই হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা নেতিবাচক উত্তর দেন। তবে তিনি এখনো হাল ছেড়ে দেননি বরং বিভিন্ন মাধ্যমে মনোনয়ন পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অপর একটি সূত্র পার্বত্যনিউজকে নিশ্চিত করেছে।  

এদিকে ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে প্রার্থীতা পেয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলাবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং আবারও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য জেলাবাসীকে আহবান জানান। নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে পার্বত্যচট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করবেন এবং জাতীয় উন্নয়নের মূল শ্রোতধারার সাথে খাগড়াছড়িকে সম্পৃক্ত করবেন।

জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক কে.এম. ইসমাইল হোসেন কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নির্বাচনের জন্য জেলা যুবলীগ এ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাবে বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন