মানিকছড়িতে দুগ্ধগাভী পেলেন অভিভাবকহীন শিশু-কিশোর পরিবার

fec-image

মানিকছড়িতে ‘১৪ বছরের কিশোরীর কাঁধে ৩ ভাই-বোনের ভরণ-পোষণ’ ও‘ মা-বাবাকে হারিয়ে চার শিশুর দুর্বিসহ জীবন’ শিরোনামে সম্প্রতি জাতীয়, স্থানীয় সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে মানবিক সংবাদ প্রকাশের পর একাধিক মানবিক সংগঠন ক্ষুদ্র পরিসরে সাহায্য-সহযোগিতার পাশাপাশি জনৈক সংবাদপত্র পাঠক ও মহানুভব ব্যক্তি এই অসহায় দরিদ্র অভিভাবকহীন শিশু-কিশোর পরিবারে একটি দুগ্ধগাভী দান করেছেন। জনপ্রতিনিধি’র উপস্থিতিতে এই দুগ্ধগাভী শিশু-কিশোর পরিবারে হস্তান্তর করেছেন মানিকছড়ি প্রেসক্লাব, দুপ্রক, গ্রাজুয়েট ফোরাম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে অসহায়, দরিদ্র ও অমানবিক জীবন-যাপনে দিনাতিপাত জনগোষ্ঠিকে নিয়ে বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় দৈনিক, পাক্ষিক সংবাদপত্র ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে অনুসন্ধানমূলক মানবিক সংবাদ পরিবেশন করেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। ফলে স্থানীয় বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক সংগঠন ক্ষুদ্র পরিসরে কম্বল, ঘরের টিন, জামা-কাপড় ও নগদ অর্থ সহায়তা করেন ওই মা-বাবা ও অভিভাবকহীন শিশু-কিশোর পরিবারে। যে পরিবারে একমাত্র অভিভাবক এখন ১৪ বছরের কিশোরী ক্রাউসাং মারমা। ছোট ৩ ভাই-বোনের একমাত্র আশ্রয়দাতা, খাদ্য যোগানদাতা বড় বোন ক্রাউসাং মারমা নিজে। মা ও বাবাকে হারিয়ে ছোট ভাই-বোনকে বাঁচাতে ক্রাউসাং মারমা চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন!

৬ মার্চ শনিবার ১টি দুধের গাভী ৬৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে ওই শিশু-কিশোর পরিবারে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। ফলে ৬ মার্চ বিকালে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, সদস্য লাব্রেচাই মারমা, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান, মানবতার সেবক ও চহ্লাপ্রু কার্বারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইমন ত্রিপুরা, সামাজিক সংগঠন একতা যুব সংঘের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি এসএম নাছির উদ্দীন, মানবিক কর্মী মো. মাঈন উদ্দীনসহ শিশু-কিশোর পরিবারের আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে উক্ত দুগ্ধগাভী শিশু-কিশোরদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই অসহায় ও অভিভাবকহীন শিশু-কিশোরদের জন্য যারা মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমি পরিষদ থেকে একটি সোলার প্যানেল দেয়ার ব্যবস্থাসহ আগামীতে তাদের প্রতি সু-দৃষ্টি রাখবো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 9 =

আরও পড়ুন