মান ভেঙেছে বারেক-রহিমের, ভোটের লড়াইয়ে এখনো ৪বিদ্রাহী

fec-image

অবশেষে দলীয় সিদ্ধান্তকে সন্মান জানিয়ে বিদ্রোহের পথ থেকে সরে এসেছেন, রাঙামাটির লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিম।

বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর তিন সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে লংগদু উপজেলা গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ দলীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করার পর বিদ্রাহী আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল বারেক সরকার এবং আব্দুর রহিম তাদের সিদ্ধান্ত বদল করেন।

লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার বলেন- মাইনী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা আমার ছেলে মো. এরশাদকে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সন্মান জানিয়ে এবং দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। এখন দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা মাঠে কাজ করে যাবো।

লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে আমার ভাইয়ের ছেলে রকিব হোসেনকে সরিয়ে নিয়েছি। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা সর্বাত্বক কাজ করে যাবো।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, আব্দুল বারেক সরকার এবং আব্দুর রহিম নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তারা তাদের প্রার্থীদের সরিয়ে নিয়েছে। এখন বাকী বিদ্রোহীরা সরে আসলে আমাদের দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সহজ হবে। এইজন্য বাকী বিদ্রাহীদের বুঝাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আমরা এখনো লংগদু উপজেলায় অবস্থান করছি। দুইটি ইউনিয়ন থেকে বিদ্রাহী প্রার্থীদের সরিয়ে আনতে পেরেছি। আশা করছি বাকী বিদ্রাহীদের সরিয়ে আনতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার এবং লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিমকে দলীয় পদ থেকে প্রত্যাহার রোধ করার বিষয়ে এখনো দলীয় কোন সিন্ধান্ত আসেনি। আমরা মূলত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে সফরে এসেছি। নির্বাচন পরবর্তী দলীয় সর্বোচ্চ ফোরামে বারেক-রহিমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রাহী নেতাদের দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি ফিরিয়ে আনতে বুধবার লংগদু উপজেলায় ঝটিকা সফরে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। তার সফর সঙ্গী ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিক তালুকদার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রফিকুর মাওলা এবং জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদুর সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে- যথাক্রমে আটারকছড়া ইউনিয়নে আ’লীগের একক প্রার্থী হয়েছেন, উপজেলা আ’লীগের সদস্য অজয় চাকমা (মিত্র) এবং কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নে উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও বর্তমান ইউনিয়টির চেয়ারম্যান মোস্তফা মিয়া। মূলত এ দু’টি ইউনিয়নে আ’লীগের একক প্রার্থী রয়েছে।

বাকী পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী কমে যাওয়ায় এখন বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো চার-এ।

এদিকে মাইনী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন কমল বলেন- আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল। জনগণ আমার মূল শক্তি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমি বিজয়ী হবো। বগাচতর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের  বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহান উদ্দিন বলছেন, নির্বাচন থেকে সরছি না। ভোটের লড়াইয়ে ঠিকে থাকবো। জয় আমার হবে।

ভাসাইন্যাদাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হযরত আলী বলেন, নির্বাচন থেকে সরে আসার প্রশ্ন আসে না। এই এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। নির্বাচনে আমার জয় সুনিশ্চিত।

লংগদু ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কুলিন মিত্র চাকমা আদু বলেন, জনগণ আমার শক্তি। তাদের কথা দিয়েছি। নির্বাচন থেকে সরে আসার কোন পথ নেই। জনগণই আমাকে এ নির্বাচনে বিজয়ী করবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + seventeen =

আরও পড়ুন