যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত ইরানের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে : মাসুদ পেজেশকিয়ান


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধ শেষ করার যেকোনো সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে ইরানের পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ানের সভাপতিত্বে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে সোমবার ইরানের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বশেষ অবস্থা এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলো বজায় রাখতে নির্বাহী সংস্থাগুলোর কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা করাই ছিল এই বৈঠকের উদ্দেশ্য।
অধিবেশন চলাকালে বিশেষ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বশেষ অবস্থা, জনগণের অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা সরবরাহের গতিপ্রকৃতি, মৌলিক প্রয়োজনীয়তার অবস্থা এবং নির্বাহী, সেবা, ত্রাণ প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশের বিভিন্ন খাতে সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা, জনশান্তি বজায় রাখা এবং নির্বাহী প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থার ওপর প্রতিবেদন পেশ করেন।
সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম, অবকাঠামো ও উৎপাদন, অর্থনৈতিক, জীবিকা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক এই পাঁচটি বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর একটি বিশদ প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়, যাদেরকে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পরিচালনা ও সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে দেশের সকল খাত ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মক্ষমতার প্রশংসা করার পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসী আক্রমণের মধ্যে ইরানের সংবেদনশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন যে, এই পর্যায়ে কার্যকর ও সমন্বিত পরিষেবা প্রদান অব্যাহত রাখা জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তা আন্তরিকভাবে ও ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দেশের দৃঢ় প্রতিরক্ষা এবং আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধের জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাদের এই প্রতিরোধ ও প্রচেষ্টাকে জাতির গৌরবময় ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কর্তৃত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাকে নির্ণায়ক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
পেজেশকিয়ান ইসলামী ব্যবস্থা, সশস্ত্র বাহিনী এবং ইরানের পবিত্র ভূমির সমর্থনে গত এক মাস ধরে অনুষ্ঠিত জনগণের অভূতপূর্ব সংহতি এবং বিশাল রাত্রিকালীন সমাবেশগুলোরও প্রশংসা করেন। তিনি এই সচেতন ও শক্তিশালী উপস্থিতিকে জাতীয় ঐক্যের একটি প্রকাশ এবং বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি পরিশেষে বলেন যে, যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র উল্লিখিত সকল শর্ত বিবেচনায় রেখে এবং মহান ইরানি জাতির মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করার কাঠামোর মধ্যেই গ্রহণ করা হবে।
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেই এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের বিনা উসকানির সামরিক অভিযান শুরু করে।
এই হামলাগুলোতে ইরানজুড়ে সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্থানেই ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এর জবাবে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করে।
সূত্র; তাসনিম নিউজ

















