রাঙামাটিতে পাঁচ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা


রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বৃহৎ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, যেখানে বিভিন্ন বয়সের পাঁচ শতাধিক রোগী চোখের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে রাঙামাটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি ২০০১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বন্ধুত্বের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে সকাল থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। রাঙামাটি সদরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শিশু, নারী ও বয়স্করা চিকিৎসা নিতে উপস্থিত হন।
চিকিৎসা কার্যক্রম বাস্তবায়নে যুক্ত ছিল লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। আয়োজনে সহযোগিতা করে উন্মেষ এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং রোজভ্যালি। অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি যেসব রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই জানান, পার্বত্য এই অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসা সহজলভ্য নয় এবং ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। ফলে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের বিনামূল্যের উদ্যোগ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশেষ সহায়ক বলে তারা মন্তব্য করেন।
চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী শিক্ষিকা রোজী আক্তার বলেন, রাঙামাটিতে সাধারণ চিকিৎসা পাওয়া গেলেও চোখের চিকিৎসা করানো বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। এই ক্যাম্প অনেক মানুষের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অর্গানাইজার সাইফুর রহমান জুয়েল জানান, এই ক্যাম্পে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসাই নয়, দীর্ঘদিনের চোখের জটিল সমস্যাও শনাক্ত করা হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক রোগীর দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। যাদের চোখে ছানি আছে, তাদেরকে আমরা বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেব। জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাপিয়া চাকমা জানান, ২৫ বছরের বন্ধুত্বের স্মরণীয় এই সময়ে তারা সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন। তাই উদযাপনকে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এসএসসি ২০০১ ব্যাচের বন্ধুদের।

















