রামুতে ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে সাজানো ধর্ষণ মামলা

রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জনপ্রতিনিধি ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাজানো ধর্ষণ মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ ভিকটিম নিজেই সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, তার হতদরিদ্র মাকে টাকার প্রলোভন দিয়ে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ও ভূমিগ্রাসি চক্র এ মামলা দায়েরে ইন্ধন দিয়েছে। হতদরিদ্র মহিলাকে ম্যানেজ করে মেয়েকে ভিকটিম সাজিয়ে এ ধরনের মিথ্যা ধর্ষণ মামলা নিয়ে পুরো এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন মৌলভীকাটা এলাকার মৃত নুরুল আলম প্রকাশ নুরুর স্ত্রী খালেদা বেগম তার মেয়ে জন্নাতুল বকেয়া প্রকাশ মুইন্যাবিকে ধর্ষনের অভিযোগ এনে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই মামলায় দক্ষিন মৌলভীকাটা এলাকার আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক এর ছেলে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইদ্রিস এবং তার বড় ভাই ইলিয়াছকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, যাকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে সেই মেয়ে জন্নাতুল বকেয়া মুইন্যাবি হতদরিদ্র হওয়ায় চার বছর বয়স থেকে তারা নিজেদের বসত বাড়িতে লালন পালন করে আসছেন। তার মা সম্প্রতি এলাকার কিছু প্রভাবশালী ও কুচক্রী মানুষের আর্থিক প্রলোভনে পড়ে আমাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছে। এমনকি মেয়েটি নিজেও এ বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ধরনের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করায় তারা হতবাক হয়েছেন। এলাকার কিছু কুচক্রী ব্যক্তির সাথে তাদের জমি নিয়ে এবং নির্বাচনী বিরোধ ছিলো। এরই জের ধরে এ মামলা করা হয়েছে।

এদিকে মামলার ভিকটিম জন্নাতুল বকেয়া মুইন্যাবি সম্প্রতি রামুর সংবাদকর্মীদের কাছে গিয়ে সাজানো এ মামলার কথা তুলে ধরে। ভিকটিম আরো জানায় তার হতদরিদ্র মা খালেদা বেগমকে ওই এলাকার মৃত রওশন আলীর ছেলে দিদার মিয়া এবং মৃত পিয়ার মোহাম্মদের ছেলে আমির আলী বাবুইল্যা আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে এ মামলা করিয়েছে। এ মামলা করার জন্য চক্রটি তার মাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

জন্নাতুল বকেয়া মুইন্যাবি আরো জানায়, ‘আমাকে কেউ ধর্ষণ করেনি। বরং মো. ইদ্রিস, মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ তাদের পরিবারের সকল সদস্য আমাকে ছোটবেলা থেকে আদর-স্নেহ দিয়ে আসছে। আমি এ মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য আমার মা সহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি’। সম্প্রতি মায়ের কাছে বেড়াতে গেলে কৌশলে এ ধর্ষণ মামলা সাজানো হয়। বেড়ানোর পর সে ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিসের বাড়িতে ফিরে আসে।

এদিকে জন্নাতুল বকেয়াকে অপহরণ করার অভিযোগ এনে কুচক্রী মহলটি গত ২১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরো একটি সাজানো মামলার চেষ্টা চালায়। মামলাটি দায়ের করার মূহুর্তে ভিকটিম জন্নাতুল বকেয়া মুইন্যাবি বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে তাকে অপহরণ করা হয়নি এবং ধর্ষণের ঘটনাও মিথ্যা বলে আদালতকে তথ্য দিলে বিজ্ঞ বিচারিক হাকিম অপহরনের অভিযোগে করা ওই মামলাটি গ্রহন করেননি। এ সময় জন্নাতুল বকেয়া মা ধর্ষন মামলার বাদি খালেদা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ওই এলাকার দিদার মিয়ার সাথে ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস এর পরিবারের দীর্ঘদিন জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এনিয়ে পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া আমির আলী বাবুইল্যা বিগত ইউপি নির্বাচনে মো. ইদ্রিসের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। এসব কারণে কুচক্রী মহলটি সংঘবদ্ধ ও প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানা হয়রানিমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

এনিয়ে এলাকায় জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসী সাজানো ও হয়রানিমূলক এসব মামলা প্রত্যাহারসহ মিথ্যা মামলা দায়েরকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন