রোহিঙ্গাদের জন্য প্রথমবারের মতো চাল সহায়তা দিচ্ছে চীন

fec-image

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য প্রথমবারের মতো চাল সহায়তা দিচ্ছে চীন। প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার টন চাল দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। এরমধ্যে প্রথম দফায় ২০০ টন চাল চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র চীনের এই সহায়তাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বাংলাদেশ।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, চীন রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য আড়াই হাজার টন চাল দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে তাদেরসঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। প্রথম দফায় ২০০ টন চাল আসছে। পর্যায়ক্রমে বাকি চালও আসবে।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য দেয়া চীনের সহায়তার এই চালের শুল্ক মওকুফ করতে ২৬ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য চীন সরকারের পক্ষ থেকে ২০০ টন চাল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে।

এ চাল বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য জরুরি মানবিক ত্রাণ সহায়তা হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সেহেতু এসব ত্রাণসামগ্রীর ওপর আরোপযোগ্য সব শুল্ক/কর মওকুফ করার জন্য অনুরোধ জানানো হল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্র চীন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনকে বরাবরই পাশে চেয়েছে বাংলাদেশ।

এ বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে দেশটির সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবে বলে বেইজিং ঢাকাকে আশ্বস্ত করে। এরপর থেকেই মূলত রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রথমবারের মতো চাল সহায়তা দিতে যাচ্ছে রাষ্ট্রটি।

জানা গেছে, ১৯৯১-৯২ সালে ৩৩ হাজার ৫৪২ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। ফলে তারা টেকনাফ ও উখিয়াতে অবস্থান করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলে রোহিঙ্গা সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সব মিলে বর্তমানে মোট ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এনজিওর সহায়তায় রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পক্ষ থেকে ২-৩ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের জন্য মাসে ৩০ কেজি চাল, নয় কেজি ডাল ও তিন লিটার ভোজ্যতেল দেয়া হচ্ছে। ৪-৭ সদস্যের পরিবারের জন্য মাসে ৬০ কেজি চাল, ১৮ কেজি ডাল ও ছয় লিটার ভোজ্যতেল এবং আটের অধিক সদস্যের পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ১২০ কেজি চাল, ২৭ কেজি ডাল ও ১২ লিটার ভোজ্যতেল সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি প্রতি মাসে দুই রাউন্ডে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে।

সূত্র: যুগান্তর

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 7 =

আরও পড়ুন