রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা: বিচার হবে আর্জেন্টিনার আদালতের

fec-image

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা নিতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টিনার আদালত। এর মধ্যেমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান মিন অং লাইং এবং বর্তমান জান্তার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চালুর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে বিশ্বের যেকোনো স্থানে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার করার যে অধিকার ‘ইউনিভার্সেল জুরিসডিকশন’ (সর্বজনীন এখতিয়ার) নীতিতে আছে তা প্রয়োগ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

২০১৭ সালে জোরপূর্বক গণবাস্তুচ্যুত হয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম অংশ বাংলাদেশে চলে আসে। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ‘ইউনিভার্সেল জুরিসডিকশন’ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে মিয়ানমারের জেনারেলদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ে আর্জেন্টিনাই প্রথম ওই নীতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।

আর্জেন্টিনার আপিল কোর্টের দ্বিতীয় চেম্বারের রেজুলেশনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনায় ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশন’র নীতিতে মামলাটি পরিচালিত হবে, যা মূলত একটি আইনি ধারণা, বিভিন্ন দেশের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো ঘটনায় এ মামলা করা যায়।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগকে সাধুবাদ জানাই এই মামলাটি নেওয়ার সাহস ও নৈতিক নেতৃত্ব দেখানোর জন্য। কয়ে দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অমানবিক ও হত্যার বিচার এখন হাতের নাগালে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এটা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্যই দায়বদ্ধতা নয়, পাশাপাশি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস শাসনে যারা কষ্ট পাচ্ছে তাদের জন্য। এরই মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত, আহত, নির্যাতিত ও নিখোঁজ রয়েছে। তুন খিন আরও বলেন, দশকের পর দশকজুড়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যার মতো কর্মযজ্ঞ চালিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করছে। মামলাটি কয়েক দশক ধরে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০১৯ সালের নভেম্বরে বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে প্রথম আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগের কাছে এমন একটি মামলা খোলার জন্য আবেদন করেছিল। এ সংস্থার প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, এটি শুধু আমাদের রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, সর্বত্র নির্যাতিত মানুষের জন্য আশার দিন। আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তটির ফলে এটিই প্রতীয়মান হয় গণহত্যাকারীদের লুকানোর কোথাও জায়গা নেই। বিশ্ব এ জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =

আরও পড়ুন