লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধা


লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে কয়েকশ লোককে জড়ো করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত তাদের সরে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ি সীমান্তের কলসিরমুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সীমান্তের ৮১০ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে গোলডাঙ্গা গেটসংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের একটি টহলদল কয়েকটি জিপ, একটি ট্রাক, একটি বাস ও একটি পিকআপে করে বিপুলসংখ্যক লোককে সীমান্তের কাছে নিয়ে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাদের দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ লোকজনকে নিয়ে সেখান থেকে সরে যায়।
এদিকে একই দিনে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৮৫৫ নম্বর প্রধান পিলারসংলগ্ন এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টার অভিযোগ ঘিরেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে গত শুক্রবার ভোরেও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময়ও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে হয়।
সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীরা দলবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তজুড়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক রয়েছেন। কোনোভাবেই কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, রবিবার ভোরে পুশইনের সম্ভাব্য চেষ্টা টের পেয়ে বিজিবি দ্রুত অবস্থান নেয়, যার ফলে বিএসএফকে সরে যেতে হয়।

















