‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে বিজিবি বদ্ধপরিকর’


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে কক্সবাজার টেকনাফের নাফ নদীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক বিশেষ নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে টেকনাফ ট্রানজিট জেটিতে এই মহড়া শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ হানিফুর রহমান ভুঁইয়া বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য জনমনে আস্থা বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি।
সারাদেশে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই ঝুঁকি বিবেচনায় বিজিবি মোবাইল এবং স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত দল নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিজিবি এবার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত ইউনিট ব্যবহার করছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির নিজস্ব হেলিকপ্টার ও কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF), বিশেষায়িত র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT) এবং K-9 ডগ স্কোয়াড। নজরদারির জন্য ড্রোন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সদস্যদের জন্য বডি-অন ক্যামেরা।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যু বিজিবি মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে জানানো হয়, দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের নাফ নদী সংলগ্ন ২৭ কিলোমিটার এলাকাসহ মিয়ানমারের সাথে থাকা দীর্ঘ ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, মাদক বা অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধ না ঘটে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিজিবি সদস্যরা সংবিধান ও আইনের আলোকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।
শেষে বিজিবি অধিনায়ক সীমান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে রাখা প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় বিজিবি কর্ককর্তা ও মিডিয়াকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

















