স্বপ্নের শীলেরতুয়া-রূপসীপাড়া ব্রিজ: আনন্দে ভাসছে দুপাড়ের লাখো মানুষ

fec-image

বান্দরবানের রূপসীপাড়া থেকে ওপারের শীলেরতোয়া যেতে আর নৌকা পাড়ি দিতে হবে না। মানুষের জীবনজীবিকা, কৃষি এবং অর্থনীতে গতি আসবে। আর সেই লক্ষ্যেই শীলেরতুয়া-রূপসীপাড়া মানুষের স্বপ্নের ব্রিজের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ১৮৪ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি খুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করছে শ্রমিকরা। ব্রিজের তিনটি স্প্যান বসানোর পাশাপাশি, নদীর উপর সুপার স্ট্রাকচারসহ সবই চলছে একযোগে। আর মাত্র কয়েকমাস পরেই যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ব্রিজটি।

লামা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ মে বান্দরবানের লামা উপজেলার পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদীর উপর শীলেরতুয়া-রূপসীপাড়া সড়কে বিশেষ বৈশিষ্ট্যে ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের টেন্ডারে ১১কোটি ৩৬ লাখ টাকায় এই ব্রিজ নির্মাণে দায়িত্বপায় মের্সাস তমা ও এম এ জাহেদ কন্সট্রাকশন। এই সেতুর দৈর্ঘ্য ১৮৪মিটার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের লামা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহফুজুল হক জানান, করোনার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্রিজের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারীতে খুলে যাবে শীলেরতুয়া-রূপসীপাড়া সড়কের অন্যতম এই মাধ্যমটি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, দুইপারের মানুষ নৌকায় পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ব্রিজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দেন পার্বত্যমন্ত্রীর বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। এরপর ২০১৯ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে নির্মাণকাজের সূচনা হয়। ব্রিজটি চালু হলে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের পাশাপাশি ওপারের নয়াপাড়া, সিদ্দিকপাড়া, ঠান্ডাঝিরি, মারমাপাড়া, চামাইছড়ি, সাতপাড়াসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষের চলাচল আরো সহজ হবে। গতি আসবে ব্যবসা বাণিজ্যসহ মানুষের জীবনমানে। ব্রিজটি নির্মীত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

সরেজমিনে মাতামুহুরী ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী আসাই মারমা এই পার্বত্যনিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার জন্য নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে দুই পারের নারীরা দুর্ভোগে ছিল’। এখন ব্রিজটি নির্মীত হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের দূর্ভোগ কমে যাবে।

রূপসীপাড়া-শীলেরতুয়া অংশসহ মাতামুহুরী নদীতে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নৌকা চালান আবদু রাজ্জাক। তিনি বলেন- নদীতে পানি বেশি হলে মানুষ পারাপারে সীমাহীন কষ্ট হয়। মানুষের মাঝে ভয় কাজ করে। ব্রিজটি নির্মীত হলে হয়তো তার নৌকার আয় কমে যাবে। এরপরও তিনি খুশি। তারমতে, মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হবে না। মালামাল বহণ করতে পারবে সহজে।

শিলেরতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ক্রানুচিং মারমা বলেন, বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে নদীর ওপারে চাকরীতে যেতে হয়। ব্রিজটি উম্মুক্ত হলে আমার মতো, এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনমান পাল্টে যাবে।

স্বাধীনতার পর থেকে মাতামুহুরী নদীর উপর একটি ব্রিজের অপেক্ষায় ছিলেন অবহেলিত শীলেরতুয়া-রূপসীপাড়ার মানুষ। কাজ শেষ হয়ে আসার খবর মানুষের জন্য অন্যরকম আনন্দের। তারা বলছেন, ব্রিজটি চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে উন্নতি ঘটবে, তা কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল প্রসার ঘটাবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 7 =

আরও পড়ুন