শেষ মুহূর্তে চকরিয়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, ক্রেতাদের ভিড়

fec-image

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ আর তিন দিন পরে অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ২২টি কোরবানির পশুর হাট শেষ মুহূর্তে পুরোদমে জমে উঠেছে।

গরুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে পশ্চিম বড় ভেওলাস্থ বৃহত্তম ইলিশিয়া কোরবানির পশুর হাট ও পৌরসভার মগবাজার। সপ্তাহের নির্ধারিত বার অনুযায়ী হাট বসে। এই কোরবানির হাটে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়িযোগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজারে গরু আসতে শুরু করে। ওই পশুর হাটে স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি এসব গরু চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন প্রান্তে।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারেও পশুর হাট জমে উঠেছে বেতুয়া বাজার, রসিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (অস্থায়ী বাজার), ইলিশিয়া গরুর বাজার, চকরিয়া পৌরসভার বাসটার্মিনাল, ঘনশ্যাম বাজার, মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠ, ডুলাহাজারা বাজার, খুটাখালী, একতা বাজারসহ অন্তত ২২টির মতো কোরবানির পশুর হাট। এসব কোরবানির পশুর হাটে মাঝারি সাইজের এক একটি গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার এবং বড় সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। গরুর পাশাপাশি এই হাটে রয়েছে মহিষ ও বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল আর ভেড়া। একেকটি বড় আকারের খাসি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। অন্যান্য বাজারের তুলনায় ইলিশিয়া বাজারে এবারও সবচেয়ে বড় সাইজের গরু দেখা মিলেছে বেশ কয়েকটি। সরকারি নির্দেশনা মেনে হাট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিভিন্ন বাজারের ইজারাদারেরা।

সরকারি বিধি অনুসরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা কোরবানির হাট পরিচালনার চেষ্টা করছি। স্বেচ্ছাসেবক ও পশু বিক্রেতাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবাইকে মাইকিং করে বলা হচ্ছে। তবে, হাট-বাজারে আসা বিভিন্ন গরু, ছাগল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোনো ধরনের কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।

ইলিশিয়া কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে কথা হয় পূর্ব বড় ভেওলার এলাকার পশুপালনকারী আবুল কাসেমের সঙ্গে। তিনি জানান, ২ বছর ৩ মাস বয়সের একটি ষাঁড় গরু বাজারে এনেছেন। গরুটির ওজন প্রায় ৪৫০ কেজি বলে দাবি করছেন। গরুর দাম দেন সাড়ে ৫ লাখ টাকা। ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হলেই তিনি বিক্রি করবেন। কয়েকজন ক্রেতা ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দর দিয়েছেন।

পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকার নুরুল ইসলাম জানান, তিনি কোরবানির জন্য গরু দেখতে এসেছেন, দামে পোষালে আজই কিনবেন। তবে ইলিশিয়া এই পশুর হাট খুবই পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার। এখানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ধরনের গরু বিক্রির জন্য আনা হয়। তাই অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও গরু কিনতে ছেলে ও নাতিকে নিয়ে এসেছেন। দাম অন্যান্য বাজারের চেয়ে তুলনামূলক একটু কম।

মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, ইলিশিয়া বাজারটি একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। ব্রিটিশ আমলে এই বাজারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঐতিহ্যবাহী বাজারটিকে ঘিরে এ অঞ্চলের গরিব কৃষকদের মধ্যে গরু লালন-পালনের উৎসাহ সৃষ্টি হয়। যার কারণে প্রায় ঘরে ঘরে গরু লালন-পালন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, নবসৃষ্ট মাতামুহুরী উপজেলার পশুর এই হাট ছাড়া বড় ধরনের আর কোনো হাট নেই। ইলিশিয়া বাজারের পশুর হাটটি গ্রামের মানুষের বাড়ির পাশে হওয়ায় গরু বেচা-কেনা করতে সুবিধা হয়। এতে এখানকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠছে এবং গরিব কৃষকেরা পশুপালনে দিন দিন স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা মতে বাজার ইজারাদার যেন কোনো ধরনের বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেভাবে বাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোরবানির সময়ে বিদ্যালয়ের শর্তসাপেক্ষে খেলার মাঠে তিন দিন পশুর হাট বসানো হয় বলে তিনি জানান।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে রয়েছে। যাতে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক বাজার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, প্রশাসনের নির্দিষ্ট ইজারা দেওয়া পশুর হাট ব্যতীত নতুন কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের ওপর কোনো পশুর হাট বসানো হলে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রতি হাটে মোবাইল কোর্ট যাবে। কেউ আইন অমান্য করলে তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, গরুর হাট, চকরিয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন