সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন পরিদর্শনে কক্সবাজারের ডিসি

fec-image

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ রোধকল্পে সরকার দ্বিতীয় বারের মতো লকডাউন ঘোষনার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ঘোষিত লকডাউন ১৪ এপ্রিল (বুধবার) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কার্যকরে কিভাবে চলছে তা সরজমিন প্রত্যক্ষ করতে চকরিয়ায় এসেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। তিনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চকরিয়ায় লকডাউন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রথমে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়াস্থ খুটাখালী বাজার এলাকায় লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এর পর তিনি পর্যায়ক্রমে ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল, চিরিঙ্গা সোসাইটি, পুরাতন বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন পরিস্থিতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নানা দিক-নির্দেশনাও প্রদান করেন।

এ সময় সাথে ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর হোসেন, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের, ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর, থানার অপারেশন অফিসার মো. মোজাম্মেল হোসাইনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী, আনসার সদস্য ও পুলিশ।

উল্লেখ্য, প্রথমদফার লকডাউন কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রশাসনের অনেক তৎপরতার পরও জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবসহ নানা কারণে ভিড় লেগেই ছিল চকরিয়া পৌরশহরে। তবে দ্বিতীয়দফার সর্বাত্মক লকডাউনের চিত্র ভিন্নভাবেই দেখা যাচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনের লোকজনের আনাগোনা এবং একেবারে কম সংখ্যক ইজিবাইক, অটোরিক্সার চলাচল দেখা গেলেও প্রথমদফার চেয়ে এবারের লকডাউন অনেকটা কার্যকর দেখা যাচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক চকরিয়ায় ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কঠোর ভাবে কার্যকরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সকালে মান্যবর জেলা প্রশাসক লকডাউন পরিস্থিতি সরজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সর্বাত্মকভাবে লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকরে কঠোর ভাবে জোরদার রাখতে। মাঠপর্যায়ে লকডাউন শতভাগ সর্বাত্মকভাবে কার্যকর করতে প্রশাসনের দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে এবং মাঠে তৎপর রয়েছে।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, সর্বাত্মক লকডাউক বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ৩৯ কিলোমিটার অংশে পুলিশের তিনটি চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। তন্মধ্যে উত্তর সীমান্ত আজিজনগর এবং দক্ষিণ সীমান্ত খুটাখালীতে চিরিঙ্গা ও মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। এছাড়াও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে চকরিয়া পৌরশহরের বক্সরোডে একটি এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে আরো অসংখ্য চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। যাতে অন্য উপজেলা থেকে যাত্রীবাহী কোন ধরণের যানবাহন পাঁচ উপজেলার মোহনা চকরিয়ায় যাওয়া-আসা করতে না পারে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, ডিসি, লকডাউন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × five =

আরও পড়ুন