সাভার হত্যাকাণ্ড: এখন পর্যন্ত লাশ ২৬১, হস্তান্তর ২১৬, জীবিত উদ্ধার ২৩০০, আটকে আছে ৮ শতাধিক জীবিত মানুষ

934641_575634052469691_2022705035_n

সাভার: সাভারে ‘রানা ট্রাজেডিতে বৃহস্পতিবার রাত দুইটা  পর্যন্ত ২৬১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২১৬টি লাশ সনাক্তের পর তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩ শত লোককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ভবনের নীচে আটকে আছে বহু জীবিত মানুষ বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

শোকার্ত আর নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে আসা মানুষের হাহাকারে পুরো সাভার এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কেউ কাউকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে।

প্রসঙ্গত, সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন আট তলা ‘রানা প্লাজা’ মঙ্গলবার ফাটল ধরার পর বুধবার সকালে ধসে পড়ে। ভবনটির চারটি তলায় পাঁচটি পোশাক কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন ঘটনার সময়।

531914_10151622843192743_1650423589_n
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। সকাল থেকে দেশের সব সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পাতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং সেনা সদস্যরা রাতভর এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিলেও স্থানীয় বহু মানুষ তাদের সহযোগিতা করছেন।

ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এতোই বেশি যে উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হতে কতোদিন লাগবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ-ই। তবে উদ্ধার কাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারের সব ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি থাকার পরও জীবিতদের উদ্ধারের জন্য তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে যেহেতু আটকা অবস্থায় একজন মানুষ সাধারণত ৭২ ঘণ্টা বাঁচতে পারে সেহেতু আমরা ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তারপর এগুলো ব্যবহার করবো।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক তাদের শাস্তি হবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। খোঁজ নিয়েছেন চিকিৎসার। এ বিষয়ে রাতে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানা গেছে। এদিকে ভবন ধসের কারণ অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রাজউক আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিজিএমইএকে বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ  দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। সেখানকার পাঁচ পোশাক কারখানার সদস্যপদ স্থগিত করেছে বিজিএমইএ।

ভবন ধসের কারণ তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনোজ কুমার রায়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + five =

আরও পড়ুন