‘সোনাই সেতু’ মৃত্যুপুরী!

fec-image

একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা। যদি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা যায় তাহলে একটি জনপদ দ্রুত আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। জনমানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে সরকার ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু সেতু যখন মৃত্যুপুরী হয়ে উঠে তখন মানুষের চক্ষুছানা বড় হবে এটাই নিধারুণ সত্য।

বলছিলাম রাঙামাটি লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের সোনাই ৩নং ব্লক সেতু। সেতুটির দীর্ঘ বছর ধরে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় পারাপারে নরক যন্ত্রণা পৌহাচ্ছে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিটি পূরণ করছেন না স্থানীয় কোন কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে সেতুটির কাজ শেষ করতে স্থানীয়রা দাবি তুললেও সেতুটির সংশ্লিষ্ট কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে স্থানীয় মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

সেতুর পাশ ঘেঁষে পারাপার করতে গিয়ে অতীতে অনেক শিশু, বৃদ্ধ মারা গেছেন। সম্প্র্রতি সময়ে সেতুর পাশ ঘেঁষে ভেলাযোগে পারাপারের সময় রাজ মাহমুদ (৭০) নামের এক  বৃদ্ধ নদীতে ডুবে মারা গেছে। এঘটনায় স্থানীয়রা আবারো ফুঁসে উঠেছেন এবং সেতুটির কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সচেতন মহলও নিন্দা প্রকাশ করছে এবং অচিরেই বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সৎ দৃষ্টি কামনা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাইনীমুখ ইউনিয়নটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা। ওই এলাকায় সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল, মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিদিন কয়েকশো শিক্ষার্থী নদী পার হয়। যে কারণে সরকার স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয়দের মতে ১০ বছর আগে ওই এলাকায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। তবে মাঝ পথে সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক বছর পার হলেও কর্তৃপক্ষ সেতুটির অসমাপ্ত কাজ শেষ করেনি। যে কারণে স্থানীয়দের পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং মৃৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে। পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ এ নিয়ে মুখ খুলতে চাই না। গণমাধ্যমকে তথ্য নিতে  অপারগত প্রকাশ করছে।

সেতুটির ঠিকাদার শাহ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সোনাই হাজা ছড়া থেকে পূর্ব মালদ্বীপ যাওয়ার পথে ছড়ার উপর ফুট ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য রাঙামাটি জেলা পরিষদ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পনেরো লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেন তৎকালীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা ও জেলা পরিষদের সদস্য প্রয়াত শামীমা রশিদ। কাজটি আমি পেয়েছি এবং পনেরো লক্ষ টাকার কাজ করিয়েছি।

ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, এ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য বরাদ্দ পেতে আমি অনেক চেষ্টা তদবির করেছি কিন্তু সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য প্রয়াত জানে আলমের বিরোধীতার কারণে নতুন করে আর বরাদ্দ হয়নি যে কারণে সেতুটির কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

মাইনী ইউপি সদস্য আবুল হাসেম বলেন, আমরা পাহাড়ে বসবাস করে সরকারি অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। পাহাড়ে বসবাস করি এটা কি আমাদের অপরাধ। সেতুটির কাজ সাত বছরে কেন শেষ হলো না ? প্রশ্ন আমার।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =

আরও পড়ুন