আমরা পালিয়ে আসতে পারলেও ওরা পারে নাই : জেলে রশিদ আহমেদ


গত ২৬ আগস্ট টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের বাসিন্দা রশিদ আহমেদের ছেলেকে তার চোখের সামনেই নাফ নদী থেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। দশ দিন আগের সেই ঘটনার সময় রশিদ আহমেদ নিজেও মাছ ধরতে গিয়েছিলেন নদীতে।
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ দেখি স্পিড বোটে করে আরাকান আর্মি আসতেছে। আমি ছিলাম অন্য নৌকায়। আমার ছেলেসহ তারা ছিল আরেকটা নৌকায়। ওরা স্রোতের টানে একটু দূরে চলে গেছিল। আমরা পালিয়ে আসতে পারলেও ওরা পারে নাই। স্পিড বোট আসি ধরি ফেলাইছে।’
রশিদ আহমেদ বলছেন, স্পিডবোটে আসা সবার হাতেই অস্ত্র ছিল।
‘হাতে বন্দুক ছিল। পুলিশের মতো ড্রেস সবার, রঙ গাছের পাতার মতো,’ বলেন তিনি।
সেদিন আরাকান আর্মি নৌকাসহ ধরে নিয়ে যায় পাঁচজনকে।
আটমাসের অন্তসত্ত্বা পারভীন বেগমের স্বামীও ছিলেন সেই পাঁচজনের একজন।
তার নাম ইমাম হোসেন। ইমাম হোসেনের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিবিসিকে বলেন, তার স্বামী এবং অন্যরা বেঁচে আছে না কি মরে গেছে, তারা জানেন না। কোনো খোঁজ-খবরও পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে পাঁচ জেলে নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর মিয়ানমারের একটি ওয়েবসাইটে ইমাম হোসেনসহ অন্য জেলেদের ছবি প্রকাশিত হয়।
যেখানে বলা হয়, ‘মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়ায়’ আরাকান আর্মি তাদের গ্রেফতার করেছে।
মোবাইলে সেই খবরে আটক পাঁচ জেলের ছবি দেখিয়ে ইমাম হোসেন ও অন্যদের পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনেরা।

















