আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকতে পারছে না ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা

fec-image

আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকতে পারছে না ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের কাছে স্পষ্ট যে, কাগজে-কলমে তারা ইসরায়েলের নাগরিক, কিন্তু বাস্তবে এই রাষ্ট্রে বহিরাগত! আরবি ভাষা শুনে মুখের ওপর আশ্রয়কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে ইসরায়েলিরা।

২৯ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি সামার বলেন, ওই ইসরায়েলির আচরণে তিনি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি হিব্রু ভাষায় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সে ঘৃণাভরে আমার দিকে তাকিয়ে বলল—এই আশ্রয়কেন্দ্র তোমাদের জন্য নয়।’

আরেক ফিলিস্তিনি মোহাম্মাদ দাবদুব বাস করেন ইসরায়েলের হাইফায়। ৩৩ বছর বয়সী দাবদুস কাজ করেন একটি মোবাইল ফোন মেরামতের দোকানে। তিনি জানান, অন্যান্য দিনের মতো গত শনিবারও দোকানে মোবাইল ফোন মেরামত করছিলেন। হঠাৎ একযোগে সব ফোনে সতর্কবার্তা বাজতে শুরু করে। হাতে যে কাজটি ছিল সেটি শেষ করে দ্রুত দোকানের পেছনে থাকা একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে একটু দেরি হয়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেখতে পান দরজায় তালা ঝুলছে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোড দিয়ে চেষ্টা করলাম কিন্তু কাজ হলো না। অনেকক্ষণ দরজায় কড়া নাড়লাম। হিব্রু ভাষায় ডাকাডাকি করলাম, কোনো সাড়া পেলাম না। কিছুক্ষণের মধ্যে কাছেই কোথাও একটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ হলো। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল ভাঙা কাচ। ধরেই নিয়েছিলাম আমি মারা যাব।’ একটু থেমে তিনি আবার বলেন, ‘কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে গেল। চিৎকার-চেঁচামেচি-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। ১৫ মিনিট পর পুলিশ আর অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনতে পেলাম। আমার মনে হলো যেন ২০২০ সালে বৈরুতে বিস্ফোরণের অভিজ্ঞতা আবার জ্যান্ত হয়ে গেল আমার চোখের সামনে।’

শুধু সামার বা দাবদুব নয়, ইসরায়েলে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির অভিজ্ঞতা একই রকম। ইসরায়েলের সব নাগরিকেরই জননিরাপত্তামূলক সুবিধা—যেমন বোমা আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের সমান অধিকার থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে ইহুদি জনপদের তুলনায় নিরাপদ আশ্রয়স্থলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজে প্রকাশিত ২০২২ সালের স্টেট কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর বসতিগুলোর ৭০ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে নিরাপদ ঘর বা আশ্রয়কেন্দ্র নেই। যেখানে ইহুদি বসতির ক্ষেত্রে এই অনুপাত কেবল ২৫ শতাংশ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক প্রতিরক্ষার জন্য ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত অঞ্চলের পৌরসভাগুলো তুলনামূলকভাবে কম বাজেট পায়। নতুন ভবন তো নির্মাণ করা হয়ই না, পুরোনো ভবনগুলোতেও প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করা হয় না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন