অনুদান পাননি শহীদ নুরুল মোস্তফার পরিবার

ঈদগাঁওয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী আওয়ামী ক্যাডার পেলেন আর্থিক সহায়তা চেক

fec-image

বিগত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসী তাছনিমুল হক ফরাজি লেড়ু পেলেন অভ্যুত্থানে আহতদের আর্থিক সহায়তার এক লক্ষ টাকার চেক। তবে এ সহায়তা কপালে জুটেনি ঈদগাঁওয়ে শহীদ হওয়া নুরুল মোস্তফার পরিবারের। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভুমিকায় জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধের হাত থেকে উক্ত আওয়ামী ক্যাডার ও তার অপর আওয়ামী ক্যাডার ভাই আর্থিক সহায়তার চেক গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে সর্বমহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। সকলের প্রশ্ন এ আওয়ামী সন্ত্রাসী কিভাবে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকায় স্থান পেল। তবে কি তালিকা প্রণয়নে দায়ীত্বপ্রাপ্তদের মধ্যেও পতিত আওয়ামী দোসররা ঘাপটি মেরে রয়েছে?
সচেতন জনগণের ধারণা তালিকা প্রণয়নে দায়ীত্বরতরা এ অপকর্মটি করে জুলাই শহীদদের মর্যাদা ও অভুত্থান যোদ্ধাদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, বিগত অভ্যুত্থান চলাকালে ৪ আগস্ট ঈদগাঁও বাস স্টেশনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ অঙ্গ সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে তৎকালীন ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমার উপস্থিতিতে ছাত্র জনতার উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও উক্ত আওয়ামী ক্যাডার তাসনিমুল হক ফরাজী লেড়ু ছাত্র জনতার গণপিটুনির শিকার হয়। ঘটনার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসা নেয়া এ আওয়ামী সন্ত্রাসী কিভাবে জুলাই -আগস্ট অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকায় স্থান করে নিল তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের শেষ নেই।
এছাড়া এ আওয়ামী সন্ত্রাসী ও সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার তাছনিমুল হক ফরাজি লেদু ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঈদগাঁওয়ের শিবির নেতা শহীদ জয়নাল আবেদীন চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তার পিতার নাম মাস্টার মোজাম্মেল হক ফরাজী। সে ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ফরাজীপাড়ার বাসিন্দা। সে বৃহত্তর ঈদগাঁও আওয়ামী লীগের সভাপতি,অবিভক্ত কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের আমরণ উপদেষ্টা ছিলেন।
ঈদগাঁও উপজেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া এডভোকেট এসকে আহমদ ফারুকী তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সাথে জানান, অভ্যুত্থান পরবর্তী কিছু ছাত্রলীগ পতিত আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ছদ্মবেশি ছাত্র প্রতিনিধি সেজে এ তালিকা প্রণয়নের কাজে চিহ্নিত এ আওয়ামী ক্যাডারের নাম তালিকায় দেয়ার পেছনে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি অবিলম্বে উক্ত আওয়ামী ক্যাডারদের আইনের আওতায় এনে এ রহস্য উদঘাটনের দাবী জানান।
ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমার কাছে উক্ত আওয়ামী ক্যাডার কিভাবে জুলাই অভ্যুত্থান সহায়তা তালিকায় স্থান পেল জানতে চাইলে বলেন, তালিকা উপজেলা থেকে পাঠানো হয়নি। ছাত্র প্রতিনিধিরা পাঠিয়েছে। সে কিভাবে ওখানে স্থান পেল তা তিনি অবগত নন।
এদিকে অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন ঈদগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত এবং পরে নিহত হওয়া শহীদ নুরুল মুস্তফার পিতা শফিউল্লার কাছে উক্ত আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্র জটিলতার কারণে তিনি আবেদন করতে পারেননি, বিধায় তার পরিবার সরকারি কোনো সহায়তা এখনো পায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন