ঈদগাঁওয়ে চব্বিশের ১৯ জুলাই গ্রেফতার হন বশির আহমদ


ঈদগাঁও উপজেলায় উত্তাল জুলাই বিপ্লবে গ্রেফতার হওয়া একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি হলেন জামায়াত নেতা বশির আহমদ। তাকে গ্রেফতার করা হয় ১৯ জুলাই রাত ১২টার দিকে ইসলামপুর ইউপির মধ্যম নাপিতখালীর নিজ বাড়ি থেকে।
ঐদিনের দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। ঘরে তার তিন শিশু সন্তানকে সামলানোর জন্য কেউ না থাকায় তাদের সামলাতে স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে তিনি ঘরে চলে আসেন। এর দুই দিন আগে ১৭ জুলাই থেকে ঈদগাঁও কোটা আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে।
স্বাভাবিকভাবেই আন্দোলনের প্রতি ফ্যাসিবাদ বিরোধী দল হিসেবে তার দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন থাকার কারণে তিনিও এ আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন এবং সাধ্যমত ভূমিকা রাখেন। হঠাৎ ১৯ জুলাই ঈদগাঁও থানা পুলিশের তখনকার সেকেন্ড অফিসার এস আই জুয়েলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জামায়াত নেতা বশির আহমদের ইসলামপুর ইউপির মধ্যম নাপিতখালীর বসতঘর ঘেরাও করে ফেলেন।
তখন তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান তাকে কেন গ্রেফতার করা হবে। উত্তরে পুলিশ বলে উপরের নির্দেশ। এমনকি বেশী বাড়াবাড়ি করলে ক্রস ফায়ারের হুমকি দেন। কোনো কথা না শুনে তিন শিশু সন্তানের সামনে তাকে গভীর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জানতে পারেন জুলাই আন্দোলনে কক্সবাজার লিংকরোডে পুলিশ বক্সে হামলার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আদালতে পুলিশ দুই দফা রিমান্ড চেয়ে শুনানি করলেও আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেননি। সে সময়কার তার পরিস্থিতি উল্লেখ করে আরো বলেন, একদিকে হাসপাতালে তার মুমূর্ষু স্ত্রী। অন্যদিকে ঘরে ফেলে আসা তার শিশু সন্তান- কী অবস্থায় ছিল তা মনে হলে এখনো তার ঘুমহীন নিশি কাটে।
স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী হাসিনার পতনের একদিন পর ৬ আগষ্ট ১৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তখন মাও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। আবার বাবা বিনা অপরাধে গ্রেফতার হয়ে আমি জেলে। আমার তিন সন্তানকে দেখার কেউ ছিল না সেদিন। এ জুলাই বিপ্লব সফল না হলে তাকে হয়তো আরো কতকাল, অসুস্থ মা, অসুস্থ স্ত্রী এবং অবুঝ তিন সন্তান থেকে দূরে সেই নির্জন কারাগারে কত কাল থাকতে হত তা কেউ জানে না।
আটকের দিন রাতের গভীরে পুলিশ আমাকে নিয়ে আধারে হারিয়ে যায়। সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের আত্মচিৎকারে বাতাস ভারি হয়ে যায়। স্মৃতি ভেসে উঠে আজো।
তবে তিনি যে বিপ্লবের জন্য কারাভোগ করেছেন, সে বিপ্লবের সফলতায় আজ তিনি গর্বিত। মজলুম জামায়াত নেতা বশির আহমদ ইসলামপুর ইউপির রিজার্ভ পাড়ার কবির আহমদের ছেলে।

















