উপসাগরীয় ঘাঁটি ছেড়ে হোটেলে লুকিয়েছে মার্কিন সেনা‌রা

fec-image

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ১৯তম ধাপের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোরে তারা ইসরায়েলের তেল আবিব লক্ষ্য করে শক্তিশালী খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এক টন ওজনের ওয়ারহেড (যুদ্ধাস্ত্র) বহনকারী এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মধ্য তেল আবিব, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং ওই বিমানবন্দরে অবস্থিত ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ২৭তম স্কোয়াড্রন ঘাঁটিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অভিযানটি ভোরের আলো ফোটার আগে “ইয়া হাসান ইবনে আলী (রা.)” কোড নামে শুরু করা হয়।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, কৌশলগত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সাথে আত্মঘাতী ড্রোনও ছিল। এগুলো অধিকৃত অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাধিক স্তর সফলভাবে অতিক্রম করে হামলা চালিয়েছে, যা আক্রমণকারীদের জন্য “প্রকৃত নরক” তৈরি করেছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ১৮তম ধাপের অভিযানে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে অবস্থিত ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

আইআরজিসির এই বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে নজিরবিহীন সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই বহুমুখী ও যুগপৎ আক্রমণ যুদ্ধের প্রচলিত নিয়ম বদলে দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি শাসনের সামরিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে।

বিবৃতিটি শেষ করা হয়েছে একটি কড়া সতর্কবার্তার মাধ্যমে। এতে বলা হয়, “আঞ্চলিক ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর হোটেলে মার্কিন সেনাদের কাপুরুষোচিত অবস্থান এবং পারস্য উপসাগরে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আইআরজিসির গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে পারেনি। আইআরজিসির সাহসী যোদ্ধারা এখন প্রতিটি আক্রমণকারী মার্কিন সেনাকে খুঁজে বের করার অপেক্ষায় আছে। তাদের কলার চেপে না ধরা পর্যন্ত এই যোদ্ধারা বিশ্রাম নেবে না; পালানোর কোনো পথ থাকবে না।”

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন