কক্সবাজারের ১৭ ইউপিতে ভোটযুদ্ধ আজ
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সকাল ৮টা ভোটগ্রহন শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ইউপিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় উপজেলা পর্যায়ের সব ইউপি এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নেমেছে যৌথ বাহিনী। র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নামানো হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে টহল দিচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন প্রথমবারের মতো দলীয় মোড়কে হওয়ায় এইসব ইউনিয়নে রীতিমতো উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গতকাল রোববার মধ্যরাতেই শেষ হয়েছে মিছিল-মিটিংসহ প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, মহেশখালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ৮৮ জন এবং সাধারন সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ৩৭৪ জন। ইউনিয়নগুলো হলো, ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালী, ধলঘাটা, হোয়ানক, কালামারছড়া, কুতুবজোম ও মাতারবাড়ী। এই সাত ইউনিয়নে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন। মহেশখালীতে মোট ৭৪টি ভোটকেন্দ্রের ৩৯৪টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহন করা হবে। কুতুদিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী রয়েছেন ২৯ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ৬০ জন এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ২০৩ জন। ইউনিয়নগুলো হলো, আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ, দক্ষিণ ধুরং, কৈয়ারবিল, লেমশীখালী, উত্তর ধুরং এইসব ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ৮১ হাজার ৯ ৭৭৭ জন। কুতুবদিয়ায় মোট ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের ১৮৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহন করা হবে। টেকনাফ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী রয়েছেন ২৯ জন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ৪৪ জন ও সাধারন সদস্য প্রার্থী ২১৬ জন। ইউনিয়নগুলো হলো, বাহারছড়া, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ সদর ও সাবরাং। ওই ৪ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৭৭ জন। ইউনিয়নগুলোর মোট ৩৬টি ভোটকেন্দ্রের ২১৬টি স্থায়ী ভোটকক্ষ ও ৪১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষে ভোটগ্রহন করা হবে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহনের দিন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো প্রভৃতি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আজ মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। একই সময়ের মধ্যে লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের নৌযান ও স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে সব নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ও দূর পাল্লার নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বা তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিল থাকবে। তা ছাড়া নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং কিছু জরুরি কাজ যেমন-অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে ব্যবহারের জন্য উল্লেখিত যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মেছবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে আমরা ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৮ জন পুলিশ ও ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে র্যাবের ৩টি দল এবং বিজিবির ৪০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনি অপরাধ সমূহের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য কুতুবদিয়া উপজেলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, টেকনাফে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অরুন পাল ও মহেশখালীতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক উপজেলায় ৩ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপে জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ১৯ টি ইউনিয়নের তপসিল ঘোষনা করে। পরে আইনী জটিলতা পড়ে টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তপসিল পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুসারে ওই দুইটি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে আগামী ২৭ মার্চ।
১৭ ইউনিয়নে এবার যারা চেয়ারম্যান প্রার্থী : মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, কামরুল হাসান (নৌকা), নুুরুল আলম (আনারস), নুরুল ইসলাম মনি (নাঙ্গল), সরওয়ার আলম শাহিন (ধানের শীষ), মাতারবাড়ি ইউনিয়নে এনামুল হক (নৌকা), নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর চৌধুরী (ধানের শীষ), মোস্তাক আহমদ (চশমা), মো: কাউছার (মটরসাইকেল), মো: ইলিয়াছ (হাতপাকা), মোহাম্মদ উল্লাহ (আনারস), হোয়ানক ইউনিয়নে আমান উল্লাহ (মোটর সাইকেল), ইসরাত জাহান নিনা (টেলিফোন), এনামুলক করিম চৌধুরী (ধানের শীষ), মোস্তফা কামাল (নৌকা), মাহাবুবুল আলম (আনারস), কালারমারছড়া ইউনিয়নে তারেক বিন ওসমান শরীফ (নৌকা), এখলাছুর রহমান (ধানের শীষ), আনসারুল করিম (আনারস), বড়মহেশখালী ইউনিয়নে মো: শরিফ বাদশা (নৌকা), এনায়েত উল্লাহ বাবুল (চশমা), আক্তার কামাল চৌধুরী (মোটর সাইকেল), আব্দুল মান্নান (ঘোড়া), রাহমত করিম (আনারস), মাহাবুব আলম (নাঙ্গল), ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে আব্দু সামাদ (আনারস), নুরুল হুদা (ধানের শীষ), জিহাদ বীন আলী (নৌকা), সিরাজুল মোস্তফা (ঘোড়া), সিরাজুল মোস্তফা বাশি (নাঙ্গল), কুতুবজুম ইউনিয়নে মোশারফ হোসেন খোকন (নৌকা), মো: সোহেল (নাঙ্গল), সফিউল আলম (ধানের শীষ), শহিদুল ইসলাম মুন্না (টেলিফোন)।
কুতুবদিয়ার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের ইয়াহিয়া খান কুতুবী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী (মটর সাইকেল), বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌল্লাহ (আনারস), আজিজ মুহাম্মদ শাহ নিয়াজ (চশমা) ও বিএনপির মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন (ধানের শীষ)। দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামীলীগ’র আরিফ মোশাররফ ( নৌকা) বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ),স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল্ আজাদ (আনারস), তারেক মোঃ নওশাদ ( ঘোড়া), নূরুল আমিন (চশমা), জাতীয় পার্টির মাষ্টার জয়নাল আবেদীন (লাঙ্গল)। লেমশীখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ‘লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদ কুতুবী (নৌকা), বিএনপি‘র মোঃ আকতার হোছাইন, (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম (অটো রিক্সা), মোঃ সরওয়ার আলম (আনারস), আবু মজিদ আবদুল্লাহ (চশমা) ও মোঃ আজম (ঘোড়া)। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আজমগীর (নৌকা), সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ (ধানের শীষ),স্বতন্ত্র প্রার্থী-মোঃ আবু মুছা কুতুবী (আনারস), মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল ( ঘোড়া)। সংরক্ষিত মহিলা (১,২,৩) ফরিদা বেগম (বক), রোকেয়া বেগম (মাইক),শাহাদা বেগম ( হেলিকপ্টার)। বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী এড: ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ (স্বতন্ত্র মটর সাইকেল) মোহাম্মদ মোবারক হোছাইন (ধানের শীষ), মিজানুর রহমান (স্বতন্ত্র-ঘোড়া), ছাবের আহমদ (স্বতন্ত্র-আনারস)। আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ নূরুচ ছফা এম এম (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ খান চৌধুরী (ধানের শীষ), মোঃ শহিদুল্লাহ (লাঙ্গল)। টেকনাফ সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আলম (নৌকা), জিয়াউর রহমান (ধানের শীষ), মোহাম্মদ ইসমাঈল (লাঙ্গল), মো. শাহাজাহান মিয়া (আনারস), মোক্তার আহম্মদ (ঘোড়া), আব্দুর রহমান (টেলিফোন), দিদারুল আলম (অটোরিক্সা)। সাবরাং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান (অটোরিক্সা), সোনা আলী (নৌকা), সোলতান আহম্মদ (ধানের শীষ), মোহাম্মদ আয়াছ (লাঙ্গল), নুর হোসন (টেলিফোন), মো. ইসমাইল মেম্বার (আনারস), জাহিদ হোছাইন (মোটর সাইকেল) ও আবুল ফয়েজ (চশমা)। বাহারছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মৌলভী হাবিব উল্লাহ (আনারস), মৌলভী আজিজ উদ্দীন (নৌকা), সেকান্দর (ধানের শীষ), জসিম উদ্দীন (লাঙ্গল), সাইফুল্লাহ (অটোরিক্সা), মোশারফ হোসেন চৌধুরী (মোটর সাইকেল), মোঃ রফিক উল্লাহ (চশমা), হুমায়ন কাদের চৌধুরী (ঘোড়া), হাসিনা আক্তার (টেলিফোন)। সেন্টমাটিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন মৌলানা আব্দুর রহমান (ধানের শীষ), মুজিবুর রহমান (নৌকা), নুর আহমেদ (মোটর সাইকেল), আবদুর রহমান (আনারস) ও এম কেফায়েত উল্লাহ (টেলিফোন)।



















