কক্সবাজারে পাহাড়ধসের শঙ্কায় প্রশাসনের মাইকিং


পর্যটন শহর কক্সবাজারে গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে পাহাড়ধস ও প্রাণহানির ঘটনা-এ আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরত লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু হয়েছে। অন্যথায় অভিযান চালিয়ে আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের বরাতে ডিসি কক্সবাজার ফেইসবুক পেজ থেকে সবাইকে সতর্ক করে লেখা হয়েছে, ৭ জুলাই রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য পাহাড়তলী, লাইট হাউস পাড়া, ঘোনা পাড়া, বাদশা ঘোনা, কবরস্থান পাড়া, সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায় মাইকিং করা হয়। তারপরেও যদি ঝুঁকিপূর্ন এলাকার লোকজন সরে আসে তাহলে বাধ্য হয়ে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আনা হবে।
কক্সবাজার সদর ভূমি কর্মকর্তা (এ্যাসিল্যান্ড) শাহরিয়ার মোকতার জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলার ঝুঁকিপূর্ন সব এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে। যদি কোন মানুষ প্রশাসনের কথা কর্নপাত না করে তাহলে তাদেরকে বাধ্য করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উচ্চ পর্যবেক্ষক দুলাল দাশ বলেন, বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে ৩নং সতর্কতা সংকেত চলছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত জেলায় আরও ২/৩ দিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের লাইটহাউজ, ফাতেরঘোনা, কলাতলী, আদর্শগ্রাম, পাহাড়তলী, বৈদ্যঘোনা, খাজামঞ্জিল, ঘোনারপাড়া, মোহাজের পাড়া, কবরস্থান পাড়া, গরুর হালদা সড়ক, সিটি কলেজ এলাকা, সাহিত্যিকা পল্লী, বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকাসহ ৬টি ওয়ার্ডে পাহাড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে। ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরের আরো অসংখ্য এলাকায় পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড়কাটা চলছে। পাহাড় কেটে সমতল করে বসতি নির্মাণ করছে। ফলে প্রতিবছরই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ওইসব এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাসবাস করে যাচ্ছেন লক্ষাধিক পরিবার।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহজাহান আলী বলেন, পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে পৌরসভার ৬টি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী হাজারো পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আজ মাইকিং করে তাদেরকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এরপরেও যদি সরে না আসে বৃষ্টিপাতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে। তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার জন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত শেল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলার অন্যান্য এলাকার ন্যায় সদর উপজেলার পিএমখালী ও ঝিলংজা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকাতেও পাহাড় ধসের শঙ্কার কথা জানিয়ে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এ্যাসিল্যান্ড) শাহরিয়ার মোক্তার বলেন, কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে প্রশাসন সবসময় সতর্কে আছে। যেসব পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে সেখানে লোকজনকে সতর্ক করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক প্রশাসক মো: কামাল হোসেন বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে এবং পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হবে। বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন টানা পরিদর্শন করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে না সরলে আইন প্রয়োগের বিষয়েও অবগত করা হয়েছে। কোন মানুষের যাতে প্রাণহানী না ঘটে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা রয়েছে জেলা প্রশাসন।
















