কাউখালীতে হত্যা মামলার প্রধান আসামী মামুন গ্রেপ্তার: ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

কাউখালী

কাউখালী প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাউখালীর বেতবুনিয়া পুলিশ ডাকাতি পূর্বক হত্যা মামলার প্রধান আসামী মামুন অর রশিদ (২২)কে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে রাউজান কদলপুরের চিহ্নিত ডাকাত তছলিমের নেতৃত্বে ৮/৯জনের একটি গ্রুপ বেতবুনিয়ার নাটাকা পাড়া এলাকায় স্থানীয় আবু তালেবের খামার বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়। এসময় ডাকাত দল খামারের পাহারাদার হাসু মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের সবাইকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, মূল্যবান জিনিষপত্র ও নগদ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ডাকাত দল চলে যাওয়ার সময় গৃহকর্তা হাসু মিয়া একজন ডাকাতকে চিনে ফেলেন।

এসময় ডাকাত মামুন অর রশিদ গৃহকর্তা হাসু মিয়াকে গুলি করে দলবল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির শব্দে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে হাসু মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। পরের দিন দুপুর ২টায় হাসপাতালে হাসু মিয়ার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর খামারের মালিক আবু তালেব বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় এপর্যন্ত পুলিশ ডাকাত দলের নেতা তছলিমসহ ছয়জনকে আটক করে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস প্রধান আসামী মামুন অর রশিদ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকলেও গত ৩ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু জাফরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, আট সদস্যের ডাকাত দলের মধ্যে ছয়জন রাজাউজান কদলপুরের বাসিন্দা। তান্মধ্যে মামুন অর রশিদ রাঙ্গুনীয়ার পোমরা ইউনিয়নের দক্ষিণ নোয়াগাঁও ফকিরখিল এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে এবং অপরজন রোহিঙ্গা নাগরিক। যাকে পুলিশ এখনো আটক করতে পারেনি।

আকটকৃতদের স্বীকারোক্তিতে ডাকাতির মূল হোতা তছলিম ও মামুন সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডাকাত দলের নেতা তছলিমের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন, ২০১৪ সালের একটি ডাকাতি মামলা তদন্তাধীন এবং একই বছরে একটি মারামারির মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন