কাউখালীর অগ্নিকাণ্ডে থানা ব্যারাকসহ আগুনে পুড়েছে ১২ আগ্নেয়াস্ত্র ২’শ রাউন্ড গুলি: নগদ অর্থসহ ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা
ফলোআপ
আলমগীর মানিক,রাঙামাটি:
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙামাটির কাউখালী থানা পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকা নিরুপণ করা হয়েছে। এতে ২০০ রাউন্ড গুলিসহ ১২টি অস্ত্র ও বেতন ভাতার নগদ সাড়ে ১৫ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক ১লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার (৬ অক্টোবর) সকালে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৯ নভেম্বর রিপোর্ট জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য উপজেলা সদরের কাউখালী আইডিয়াল কেজি স্কুল কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুড়ে যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৮০ রাউন্ড গুলিসহ ১০টি রাইফেল, ১০রাউন্ড গুলিসহ ১টি শর্টগান, ১টি ম্যাগজিন ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ ১টি গ্যাস গান। এছাড়া ৫৫ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তার বেতন ভাতার ১৫ লক্ষ ৫৫ হাজার নগদ টাকা পুড়ে গেছে।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় মহা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোশারফ করিম, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ সরোয়ার হোসেন, জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল ইফতেখার মাহমুদ, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরণ সাহা জানান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ পুলিশ সদস্যকে ৯৯ হাজার টাকা ও আগুন নেভাতে গিয়ে আহত দুই যুবক মোঃ শাহজাহান মোল্লা ও আলী হোসেনকে ৭ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ব্যারাক নির্মাণের জন্য ১৫ বান্ডিল ঢেউটিন ও ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া রাঙামাটি পুলিশ সুপার আমেনা বেগম ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পুলিশ সদস্যকে ১৮ হাজার টাকা এবং কাউখালী থানার ওসি শ্যামল কান্তি বড়ুয়াসহ ১৭ জনকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।
তদন্ত কমিটিতে রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামকে আহবায়ক করা হয়েছে। অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হাবিবুর রহমান ও মনিরুজ্জামান (এ,এসপি,সার্কেল)। কমিটি আগামী শনিবার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।
কাউখালী থানায় কর্মরত ৭০ জন পুলিশ সদস্যের প্রায় সবাই মঙ্গলবার ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের ডিউটিতে অবস্থান করছিল। ফলে নিরাপত্তা চৌকিতে দুয়েকজন পুলিশ সদস্য ছাড়া পুরো থানাই ছিল কার্যত ফাঁকা। মাস শেষ হওয়া কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রাপ্য বেতনভাতা উত্তোলন করে নিজেদের ট্রাংকে গচ্ছিত রেখেছিল ব্যারাকে।
মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫ টায় হঠাৎ করে পুলিশ ব্যারাকের পশ্চিম পাশের একটি টিনশেড ভবন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। দ্রুত আশপাশের অন্যান্য ভবন গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই টিনশেডের ৪টি ব্যারাক, সেমিপাকা ১টি অস্ত্রাগার, মজুদখানা, হাজতখানাসহ ছয়টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে স্থানীয় জনসাধারন, পুলিশ, সেনাবাহিনী প্রাণপণ চেষ্টায় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলে শুধুমাত্র অফিস ঘরটি রক্ষা পায়।



















