কাপ্তাইয়ে ধর্ষণের পর পাগলীর মৃত্যু ॥ অভিযুক্ত ধর্ষক আটক

16

আলমগীর মানিক, রাঙ্গামাটি:
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের নতুন বাজার এলাকায় এক নরপশুর হাতে ধর্ষনের পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এক মহিলা পাগলী। এই ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ধর্ষক মোহাম্মদ আলী চোরাকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগে জানাযায়, কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় অজ্ঞাত নামা ৪০ উধের্ব এক মহিলা পাগলীকে ২/১ মাস যাবত এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। হঠাৎ করে ঐ পাগলী কয়েক দিন যাবত অসুস্থ হয়ে রাস্তা এবং বাজারে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসি।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটায় নতুবাজার এলাকার এক দর্জির দোকানের পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অসুস্থ পাগলীকে স্থানীয় চোর মোহাম্মদ আলী তাকে পাজাকোলা করে তুলে নিয়ে দর্জির দোকানের পার্শ্বস্থ খালি জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে।
দোকানের মাষ্টার শাহ আলম জানান, তাঁর দোকানের পাশে রাতে হঠ্যৎ করে চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়ে দোকানের ভিতর হতে বাইরে পাগলীকে মোহাম্মদ আলী চোরা কর্তৃক ধর্ষণ করতে দেখেন। পরে ডাক দিলে মোহাম্মদ আলী চোরা পালিয়ে যায়। এরপর কিছুক্ষণ পর আবারো এসে ধর্ষণ করতে থাকে বলে অভিযোগ করেন মাষ্টার শাহ আলম।

ঘটনাটি নতুন বাজারের দু’জন নৈশ প্রহরী জানে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঐ দিন বিকাল ৫টার দিকে পাগলী মারা যায়। মারা যাওয়ার পর মোহাম্মদ আলী চোরা এলাকা হতে পালিয়ে অন্যত্র চলে যায়।
এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ, ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়রা প্রথমে ধারণা করেন যে, ঐ পাগলী অসুস্থ থাকায়  স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এবং ইউপি চেয়ারম্যানসহ সকলে মিলে যখন দাফন কাফনের ব্যবস্থ্য করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল  তখন ধর্ষণ এবং মৃত্যুর ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

পরে কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান এবং পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং নির্মম ঘটনাটি কে দেখেছে বা ঘটিয়েছে তাঁদের নিয়ে এসে হাজির করানো হয় এবং সকল সাক্ষী সাবুদ অনুযায়ী মৃত পাগলীকে নিয়ে রাতে কাপ্তাই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুক্রবার রাতে শাহ আলম ট্রেইলার মাষ্টার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মৃত্যুর ব্যাপারে একটি মামলা করা হয়।

শনিবার মৃত পাগলীকে রাঙ্গামাটি পোষ্টমর্টেমের জন্য নেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই এএসপি সার্কেল হাবিবুল্লা জানান, আমরা সকলে মনে করেছি এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, পরে বিস্তারিত জানতে পেরে অভিযুক্তকে আটক করার জন্য এলাকায় রাতে  রেইড দিতে থাকি, তাঁকে না পেয়ে আমাদের পুলিশ সোর্সের মাধ্যমে চন্দ্রঘোনা এলাকা থেকে মোহাম্মাদ আলীকে সকাল ১১টায় আটক করে কাপ্তাই থানায় নিয়ে আসি। ফরেন্সিক হতে ধর্ষণের রিপোর্ট পাওয়ার প্রমান পাওয়া গেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য আটক মোহাম্মাদ আলী চোরার পিতা বাছিক্কা চোরা, গ্রামঃ সরফভাটা সাং রাঙ্গুনিয়া- কাপ্তাইসহ বিভিন্ন এলাকার  শতাধিক লোকজন অভিযোগ করে জানান, মোহাম্মাদ আলী চোরা এমন কোন ঘর নেই যে শাড়ী, লুঙী, জামা কাপড়, মোবাইল, ফ্যান, টাকা, স্বার্ণলংকার, জুতা চুরি করার বাকি রাখেনি। তাঁকে ধরা খুব শক্ত ব্যাপার বলে মনে করেন অনেকেই।

বিভিন্ন সময় হাতে নাতে আটক করে এলাকার লোকজন বেদম প্রহারসহ জেল দেওয়া হলেও আবার কিছুদিন জেল খেটে পুণরায় চুরিসহ মানুষের ঘরের মধ্যে ডুকে এ ভাবে অনেক মহিলার ইজ্জাত নষ্ট করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন। তাই প্রশাসনের নিকট এ চোরের কঠিন শাস্তির আহবান জানান ভূক্তভোগি এলাকাবাসি। 

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কাপ্তাই, ধর্ষণ, রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন