গুচ্ছগ্রাম নিয়ে কোন ধরনের বানিজ্য সহ্য করা হবেনা- কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি

কুজেন্দ্রলাল

মাটিরাঙ্গা সংবাদদাতা :

মাটিরাঙ্গা উপজেলা ২৩ গুচ্ছগ্রামে প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগে গৃহদাহ প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। প্রকল্প চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রত্যাশীসহ তাদের অনুগত নেতাকমীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আর যেকোন সময় এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আওয়ামীলীগের একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি “এমপি’র দোহাই দিয়ে খাগড়াছড়িতে প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগে বানিজ্যের অভিযোগ” শিরোনামে বিভিন্ন গণ- মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গৃহদাহ প্রকাশ্য রূপ লাভ করে। প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগের লক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করার পরপরই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগে বানিজ্য শুরু করে উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি মো: শামছুল হকের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামীলীগের ২/৩ জনের একটি সিন্ডিকেট এমন দাবী করেন মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম।

জানা গেছে, প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগে বানিজ্যের খবরে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা মঙ্গলবার সকালে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক অনির্ধারিত বৈঠকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গা উপজেলার ২৩ গুচ্ছগ্রামে প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন গণ-মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে দলের জন্য দু:খ জনক দাবী করে বলেছেন, গুচ্ছগ্রাম নিয়ে কোন ধরনের বানিজ্য সহ্য করা হবেনা। এমন কথা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান বৈঠকে উপস্থিত মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম। মাটিরাঙ্গায় গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগের নামে যারা অর্থ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে বিধিমোতাবেক গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে বলেও ঘোষনা দেন সাংসদ কজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

প্রসঙ্গত, জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ২৪টি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যানদের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর প্রত্যাশীরা আবেদন করেন। আর তখনই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামসুল হকসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর একটি সিন্ডিকেট প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে রমরমা বানিজ্য শুরু করে।

এসময় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেই। যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসতে থাকে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে গাড়ী ক্রয়ের টাকা দেবে বলে একাধিক প্রার্থী থেকে ২-৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে চাউর হতে থাকে। ফলে মাটিরাঙ্গার ২৩ গুচ্ছগ্রামে প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ রমরমা বানিজ্যের খবরে ঝুলে যায় অ-উপজাতীয় গ্রচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়া।

দলের তৃনমুল নেতাকর্মীদের কাছে অধিক জনপ্রিয় খাগড়ছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নাম ভাঙ্গিয়ে গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: শামছুল হক ও তার অনুগত গুটিকয়েক জনবিচ্ছিন্ন নেতা দলের ভাগ্য বিড়ম্বিত নেতাকর্মীদের সুযোগ-সবিধা থেকে বঞ্চিত রাখার সুদুর প্রসারী পরিকল্পনারই অংশ বলেই মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

One Reply to “গুচ্ছগ্রাম নিয়ে কোন ধরনের বানিজ্য সহ্য করা হবেনা- কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি”

  1. মাঝে মাঝে দেখি মাটিরাঙ্গার প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি বা স্টাফ রিপোর্টার বনে যান। আসলে উনার সঠিক পদবী কোনটা সেটা নিয়ে কি অফিস হতবুদ্ধ নাকি উনি নিজে……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন