চকরিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় হতদরিদ্র ২০ জন কৃষকের চলতি মৌসুমের রোপিত সবজি ক্ষেত ট্টাক্টর দিয়ে গুড়িয়ে দিয়ে জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের এহেছান নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

এতে কৃষকদের অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন প্রান্তিক চাষিরা।

এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বিএনপি নেতা এহেছানের বিরুদ্ধে পৃথক ভাবে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চকরিয়া সেনাবাহিনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে রোববার (১১ আগস্ট) বিকেলে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অমানবিক ও নেক্কারজনক এ ঘটনার জন্য স্থানীয় চাষিদরা ক্ষোভে ফোঁসে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারাস্থ মাতামুহুরী নদীর চরে ঘুনিয়া মৌজায় মিনিবাজার ভিত্তহীন সমিতির ২৪ জন সদস্যকে সরকার কর্তৃক বন্দোবস্তি মামলা নং ৯১-৯২ মূলে প্রত্যেক ভিত্তহীন সদস্যকে ৯১ শতক করে জমি বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হন। বন্দোবস্তপ্রাপ্ত উক্ত জমি বিগত ২০০০ সালের ৩০ নভেম্বর তারিখে সরকার কর্তৃক প্রত্যেককে সরেজমিন দখল প্রদানের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন।

এ সময় থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে জমিতে ভোগ দখলে থেকে নানা ধরণের চাষাবাদ করে আসছেন। এছাড়াও প্রতি বছরে সরকারি ভাবে জমির খাজনাদিও আদায় করে আসছেন বলে দাবী করেছেন তারা। এসব চাষিদের প্রত্যকের নামে পৃথক পৃথক দলিল এবং খতিয়ানও রয়েছে।

গত ৬ আগস্ট ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘুনিয়া এলাকার আলী আকবরের ছেলে এহেছানের নেতৃত্বে দেশীয় তৈরি অস্ত্রশস্ত্রসহ ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ২০ জন কৃষকের চাষাবাদ ও ফলনকৃত সবজিক্ষেত পাওয়ার টিলার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়ে জবর দখল করেন। এসময় ঘটনার সময়ে চাষিরা এহেছানকে বাঁধা দিতে গেলে তাদের নানা ধরণের হুমকি, গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেছে বলে জানান তারা।

ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. মিজান বলেন, চলতি মৌসুমে তার বন্দোবস্তকৃত ভোগদখলীয় জমিতে নানা জাতের ফলনের ক্ষেত করেছেন। গত ৬ আগস্টের দিন সকালের দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা এহেছান ৫টি পাওয়ার টিলারসহ একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমিসহ আরো ১৯ জনের চাষাবাদকৃত সবজিক্ষেত গুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এতে আমার চাষকৃত অন্তত ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে।

এ নিয়ে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও চকরিয়া সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এহেছানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দখলকৃত জায়গা নিয়ে তার যথেষ্ট ডকুমেন্টপত্র ও মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন