চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা ও জাতির ধমনীর সুরক্ষা


চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল অপারেশনের দায়িত্ব বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যথেষ্ট আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে বর্তমান বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকাশ্যেই এবং জোরের সাথে এই বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। কিন্তু দেশপ্রেমিক জনগণ এর প্রবল বিরোধিতা করেছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা আন্দোলন করেছে। কিন্তু সরকার ছিল বেপরোয়া। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এ সময়ে ঘোষণা করে, এই বন্দর লিজ দেয়ার এখতিয়ার কোনো অনির্বাচিত সরকারের নেই। পারিপার্শ্বিক নানা চাপে অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরটি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর কাছে লিজ দেয়া থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসে।
কেন এই তৎপরতা
অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল ‘টার্মিনাল অপারেটর’ হিসেবে নয়, বরং আফ্রিকান মডেল অনুসরণ করে দীর্ঘমেয়াদী ‘কনসেশনিয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে থাকলে অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্ভিক্ষ এবং সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাছড়া দেশীয় ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দরে যেখানে প্রতি কন্টেইনারে (TEU’s) গড়ে প্রায় ১৬১-১৬৭ মার্কিন ডলার রেভিনিউ পায়, বিদেশীদের কাছে কনসেশন চুক্তিতে এই রেভিনিউ অনেক কমে আসবে। ফলে দেশের রিজার্ভের উপর চাপ তৈরি হবে! এর মধ্য দিয়ে ওই সরকারের ব্যক্তি বিশেষ ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছে অথবা হবার চেষ্টা করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা রয়েছে।
সত্যিই কি চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছিল?
সিঙ্গাপুর পোর্টের মত চট্টগ্রাম বন্দরকে আমরা একটি রিজিয়নাল হাব বানাতে চাই। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপিএম টার্মিনালস, মেডলগ- এরা কখনই চায় না বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর রিজিয়নাল হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। ব্যক্তিগত স্বার্থ, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও রিজিয়নাল হাব হতে বাধা দিতেই দেশী-বিদেশী লবিস্টরা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি লিজ দেয়া ভারত-ইসরাইলের ‘আইমেক করিডর’ পরিকল্পনার অংশ। এই করিডরে একবার যুক্ত হয়ে গেলে চট্টগ্রাম বন্দর ইসরাইল-ইন্ডিয়ার সিন্ডিকেট থেকে আর বের হতে পারেবে না! এছাড়া I2U2 (India, Israel, UAE, USA) মাল্টিলেটেরাল চুক্তির থাকায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে চট্টগ্রাম বন্দর চলে গেলে
মাল্টিলেটেরাল পার্টনার হিসেবে আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত, ইসরাইল ও আমেরিকার পরোক্ষ উপস্থিতি, প্রভাব ও তাদের বার্গেইনিং পাওয়ার আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরে নিশ্চিত হবে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে যে কোনো মুহূর্তে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল। এখানকার ৪৪ শতাংশ কন্টেইনার সামলায় এনসিটি। এই টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী কনটেইনার জাহাজ ও একটি অভ্যন্তরীণ নৌপথের ছোট জাহাজ ভেড়ানো যায়। এনসিটিতে জাহাজ থেকে বার্ষিক ১০ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানোর স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। গত বছর এই টার্মিনাল ১২ লাখ ৮১ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে।
টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানি নিয়োগের প্রস্তুতির মধ্যে বন্দর ব্যবহারে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এই বর্ধিত মাশুল নিয়েও ঘোর আপত্তি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, বিদেশি কোম্পানিকে বাড়তি সুবিধা দিতেই সরকার মাশুল বাড়িয়েছে। এছাড়া লাভজনক একটি চালু টার্মিনাল কেন বিনা দরপত্রে বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়া হবে সেই প্রশ্নও উঠছে।চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান ট্যারিফে বন্দর বছরে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করার পরেও ট্যারিফ বৃদ্ধি কার স্বার্থে সেই প্রশ্ন উঠেছে। “তিনটা টার্মিনাল বিদেশিদের দেওয়া হবে। এখন সবাই এটা যোগ করছে যে ওদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এই ট্যারিফটা বাড়ানো হয়েছে। তা না হলে বাড়ানোর দরকারটা কী? লাভ তো করছে সরকার।”
দেশীয় প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে গত ১৭ বছর ধরে এনসিটি টার্মিনালটি পরিচালনা করছে। এখন এটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এনসিটি থেকে মোট রাজস্ব আয় করেছে ১ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। আর ব্যয় বাদে লাভ হয়েছে ৫৭৪ কোটি টাকা। এটিকেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দেশীয় প্রতিষ্ঠান ১৭ বছর ধরে সফল ও লাভজনকভাবে পরিচালনা করছে। এটি তার নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডল করছে এবং এক হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করছে। প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে কেন?
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের অবস্থান বাংলাদেশের প্রধান নৌ ঘাঁটির সান্নিহিত এলাকায়। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশী কর্মকর্তার অবস্থান ও তাদের হাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকলে আমাদের নৌবাহিনী অপারেশনাল কার্যক্রম মনিটর করা তাদের জন্য সহজ হবে। ফলে তৈরি হবে একটি নিরাপত্তা সংকট। ডিপি ওয়ার্ল্ড নামে দুবাইয়ের কোম্পানি হলেও এটি পরিচালনা করে ভারতীয় ম্যানপাওয়ার। ফলে এই বন্দর পরিচালনার নামে কারা সেখানে আসবে এবং কারা যাবে এই তথ্য জানা যাবে না। এছাড়াও বিশ্বের কোন দেশ তার সবগুলো বন্দর কখনো বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়নি। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব কিছু বন্দর থাকে। জাতীয় গোপনীয়তার জন্য নিজস্ব বন্দর থাকে। আমরা জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্য কোন প্রয়োজনে এমন কোন জিনিস আমদানি বা রপ্তানি করতে পারি যে তথ্য আমরা কাউকে জানাতে চাই না। কিন্তু এই বন্দর বিদেশীদের হাতে চলে গেলে তার কোন তথ্যই গোপন থাকবে না। যুদ্ধকালীন অথবা ক্রান্তিকালীন সময়ে বিদেশি অপারেটররা চলে গেলে আমাদের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমদানি ও রপ্তানি বহাল রাখার জন্য একটি জাতীয় বন্দর প্রয়োজন। সে কারণে দেশপ্রেমিক জনগণ এই বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার বিরোধিতা করছে।
জাতীয় জীবনরেখার সুরক্ষা:
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় থাকবে বাংলাদেশিরা বঙ্গোপসাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি কার্গো টার্মিনাল নয়; এটি আমাদের জাতির স্পন্দন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশের চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ। কিন্তু কিছুদিন ধরে, এই কৌশলগত সম্পদটি বিদেশি সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার এক বিপজ্জনক স্রোত আমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। আজ আমরা গর্বের সাথে ঘোষণা করছি: সার্বভৌমত্বের এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি! নতুন সরকার একটি বিচক্ষণ ও সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান টার্মিনালগুলো পরিচালনা করবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। জাতির অর্থনৈতিক জীবনরেখা অবশ্যই আমাদের নিজেদের হাতেই থাকবে!
‘নব্য-ঔপনিবেশিক’ ফাঁদ প্রত্যাখ্যান: সার্বভৌমত্ব বিক্রয়যোগ্য নয়
লালদিয়া, নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং পান গাঁওয়ের মতো মূল টার্মিনালগুলোকে বিদেশি বৃহৎ সংস্থাগুলোকে (যেমন ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং এপিএম টার্মিনালস) দীর্ঘ সময়ের জন্য ইজারা দেওয়ার পূর্ববর্তী প্রস্তাবগুলো মূলত একটি বিপজ্জনক জুয়া ছিল। ফ্যাসিবাদী রেজিম ও অন্তর্বর্তী সরকার ‘দক্ষতা বৃদ্ধি’ এবং ‘বিদেশি বিনিয়োগ’ এর টোপ দিয়ে বন্দরটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা চালিয়েছিল।
“বিদেশী নির্ভরশীলতা”র ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন:
বাংলাদেশের নিজেরই এই জাতীয় প্রবেশদ্বার পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে। তবু বিরোধীরা এই ধারণা ছড়িয়েছে যে, একটি আধুনিক বন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই এবং একে “বিশ্বের সেরা” বিদেশী পরিচালনাকারীদের উপর নির্ভর করতে হবে। এটি আত্ম-অবমাননা এবং আত্মহনন ছাড়া আর কিছুই নয়!
লাভজনক হওয়ায় সক্ষমতার প্রমাণ:
পুরোনো অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও, চট্টগ্রাম বন্দর শক্তিশালী লাভজনকতা বজায় রেখেছে এবং বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করছে। এটি স্থানীয় ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা এবং স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে।
প্রযুক্তি আমদানি করা যায়, সার্বভৌমত্ব নয়: আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো উন্নত ক্রেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং পেশাদার দক্ষতা। ২৫- ৩০ বছরের জন্য পরিচালন স্বত্ব বিক্রি না করে সরঞ্জাম ক্রয়, পরামর্শক নিয়োগ বা প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এগুলো অর্জন করা সম্ভব।
মুনাফা দেশে রাখা
প্রস্তাবিত বিদেশি প্রকল্পগুলোর অধীনে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কন্টেইনারে নিট উদ্বৃত্ত ৪৬ থেকে কমে ২-এরও নিচে নেমে আসত, এবং মুনাফার সিংহভাগই বিদেশি সংস্থাগুলো পাচার করে নিত। বন্দরটি দেশীয়ভাবে পরিচালনা করার মাধ্যমে এই বিপুল মুনাফা জাতীয় উন্নয়নে পুনঃবিনিয়োগ করা হবে; যা অবকাঠামোর উন্নয়ন, শ্রমিকদের কল্যাণ বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ কমাতে ব্যবহৃত হবে।
এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ : নতুন সরকারের দৃঢ় সিদ্ধান্ত
প্রবল গণবিক্ষোভ, শ্রমিকদের ধর্মঘট এবং দেশপ্রেমিক আলেমদের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নতুন সরকার অসাধারণ রাজনৈতিক সাহস ও উচ্চ দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে। সরকার বিতর্কিত বিদেশি ইজারা পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে এবং সুস্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চট্টগ্রাম বন্দরের মূল টার্মিনালগুলো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে!
এই সিদ্ধান্ত জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং আমাদের সংবিধানের চেতনাকে সমুন্নত রাখে। এটি “বিদেশি দক্ষতার” ওপর অন্ধ বিশ্বাস থেকে সরে এসে আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বায়ত্তশাসিত উন্নয়নের এক দৃঢ় পথের সূচনা করে। নতুন সরকার অঙ্গীকার করেছে:
দেশের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিকস সম্পদ একীভূত করে এবং আধুনিক কর্পোরেট সুশাসন প্রবর্তন করে একটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পেশাদার বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করার।
চ্যানেল ড্রেজিং এবং সরঞ্জাম আধুনিকীকরণের কাজ ত্বরান্বিত করতে বন্দরের নিজস্ব মুনাফা ও আন্তর্জাতিক স্বল্প সুদের ঋণ ব্যবহার করে জাতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার।
শ্রমিক অধিকার রক্ষা করার, যাতে বন্দর শ্রমিকরা বিদেশি ব্যয় সংকোচন ও স্বয়ংক্রিয়করণের শিকার না হয়ে জাতীয় উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।
উপসংহার:
নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ প্রতিটি বাংলাদেশীর জীবিকা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আমাদের দেশের অবস্থান এবং সর্বোপরি, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের মর্যাদার সাথে জড়িত।
বন্দরটি বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে হয়তো একটি ক্ষণস্থায়ী ‘বাহ্যিক সমৃদ্ধি’ আসতে পারে, কিন্তু এতে তৈরি হবে একটি দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরশীলতা এবং লুকানো বিপদ। বন্দরটি নিজেদের হাতে রাখায় হয়তো প্রাথমিকভাবে এটি একটি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদেরকে শিল্প শৃঙ্খলের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, বিপুল পরিমাণ জাতীয় রাজস্ব এবং অমূল্য জাতীয় আস্থা প্রদান করবে।
তাই নতুন সরকারের দেশপ্রেমিক সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে এবং আমাদের দেশীয় উদ্যোগগুলোকে তাদের দায়িত্ব গ্রহণে সমর্থন করি। বাংলাদেশী প্রজ্ঞা ও বাংলাদেশী শ্রমে, আসুন আমরা চট্টগ্রাম বন্দরকে এমন একটি বিশ্বমানের কেন্দ্রে পরিণত করি যা হবে প্রকৃত অর্থে জনগণের, জাতির সেবায় নিয়োজিত এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রভাব বিস্তার করবে। আমাদের বন্দর, আমাদের সার্বভৌমত্ব, আমাদের ভবিষ্যৎ—আমাদের নিজেদেরই আয়ত্তে আনতে হবে!
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক।
















