জেনেভা অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটের এ টু জেড তুলে ধরল বাংলাদেশ

fec-image

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছেন জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের এ টু জেড তুলে ধরেন।

সুইজারল্যান্ডের জনবহুল শহর জেনেভা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দফতরের জন্য বিখ্যাত এই জেনেভায় চলছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশন। এ অধিবেশন শুরু হয়েছে ১৬ জুন এবং শেষ হবে ৯ জুলাই ২০২৫। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়েছে। শনিবার জেনেভার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশনে এ রেজ্যুলেশন উত্থাপন করেছে ওআইসি। এ সময় মানবাধিকার পরিষদে বক্তব্যে দিয়েছেন জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ও তাদের জন্য বাংলাদেশে শুরু থেকে এ পর্যন্ত যা যা করে যাচ্ছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বাংলাদেশ সব পক্ষের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও অধিবেশনে জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম অধিবেশনে বলেছেন, দেড় বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বাংলাদেশ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা ও তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত একটি অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।

অধিবেশনে রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও ‘আরাকান আর্মি’র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীসমূহের মধ্যকার চলমান সংঘাত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বাংলাদেশের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মানবাধিকার পরিষদকে অবহিত করে উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান হত্যাযজ্ঞ, নিপীড়ন ও সহিংসতা এড়াতে শুধুমাত্র ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা বিষয়ে অনুষ্ঠেয় উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানকল্পে বাস্তবমুখী ও সময়াবদ্ধ সমাধানও খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত রেজ্যুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। রেজ্যুলেশনে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকতর দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এছাড়া এতে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাসমূহকে রাখাইনে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রেজ্যুলেশনটিতে রাখাইনে বিচারহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সব স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের অংশগ্রহণ ও অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: জাতিসংঘ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন