টেকনাফে নিত্য নতুন স্বর্ণের দোকান: ক্রেতার চেয়ে দোকানি বেশি: চোরাচালানের নিরব রুট টেকনাফ-মিয়ানমার
টেকনাফ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের স্বর্ণ চোরাচালানের আর এক নীরব রুট টেকনাফ-মিয়ানমার। চোরাচালানীরা বেশির ভাগ উভয় দেশের রাখাইন সম্প্রদায়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন রুট দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে এবং আটক হচ্ছে কিছু অংশ। কিন্তু টেকনাফে নিরবে চলছে স্বর্ণ চোরাচালান। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী বাজার, টেকনাফ পৌরএলাকার লামার বাজার, হ্নীলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায় এখানকার বেশির ভাগ স্বর্ণকার রাখাইন সম্প্রদায়। অনেক স্বর্ণকার বাংলায় কথা বলতে পারেনা এবং বুঝেও না। জিজ্ঞাসা করা হলে বাংলাদেশী স্বর্ণকার রাখাইনেরা জানায়, এরা মিয়ানমার থেকে এসেছে আমাদের আত্মীয়। এরা স্বর্ণকার কেমনে হয়ে গেলেন জিজ্ঞাসা করা হলে, আর সু-উত্তর দিতে পারেনা।
এ ছাড়া টেকনাফে স্বর্ণের গ্রাহকের চেয়ে স্বর্ণের দোকান বেশী। এ দোকানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কেন বাড়ছে, কি কারণে বাড়ছে প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই বলে স্থানীয়রা জানায়। স্বর্ণের দোকানগুলো কোন ওপেন মার্কেটে অবস্থিত নয়। প্রতিটি স্বর্ণের দোকান লোকালয়ে। স্বর্ণের দোকান-কাম বাসভবন। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে বন্ধ করে ফেলে। তাদের দোকান ও বাসভবনগুলো ইদানিং নিত্য নতুন ডিজাইনে আধুনিকতার ছোঁয়া পাচ্ছে। এমন পরিপাটি বাড়িগুলো মনে হয় যেন পৃথিবীর স্বর্গ। তালগাছের মত আকাশ স্পর্শ করছে।
সূত্র জানায়, এসব স্বর্ণকার চোরাচালানের সাথে জড়িত রয়েছে। তারা নিরবে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে স্বর্ণ এনে বিভিন্ন কৌশলে দেশের অভ্যন্তরে চালান করে দিচ্ছে। গত ২০১২ সালে ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় প্রচুর স্বর্ণ নিয়ে এক রাখাইন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। পাশাপাশি বন্দরের এক ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে বিপুল পরিমান স্বর্ণ এনে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে জানাজানি হলে স্বর্ণগুলো লুকিয়ে ফেলেন। এভাবে স্বর্ণের চোরাচালান নিরবে চলছে।
টেকনাফের রাখাইন সম্প্রদায় স্বর্ণের দোকানগুলো ভাল ভাবে চেক করা হলে আসল থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে স্থানীয় লোকজন জানায়।


















