টেকনাফ স্থল বন্দরে মিয়ানমারের কাঠ বোঝাই ট্রলারসহ ১৩ কোটি টাকার কাঠ জব্দ : আটক ৮

মুহম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ:
টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে সেন্টমাটিন বঙ্গোপসাগরের অদূরে বিপুল পরিমাণ মিয়ানমারের কাঠ বোঝাই ট্রলারসহ ৮ মাঝি-মাল্লা আটক করেছে বাংলাদেশ নৌ -বাহিনী। ৩০ জানুয়ারি রাতে সেন্টমাটিনের অদূরে বাংলাদেশ টহলরত নৌ-বাহিনীর জাহাজ (সাগর)’র কমান্ডার জসিম নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরে হানা দিয়ে ১ হাজার ৫শ’ ঘন ফুট কাঠ বোঝাই ট্রলারসহ মিয়ানমার ৮ রাখাইন মাঝি-মাল্লাকে আটক করে। উদ্ধারকৃত কাঠ ও ট্রলারের মূল্য ১৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌ- বাহিনীর অপারেশন কর্মকর্তা।
তিনি আরো জানান, টহলরত অবস্থায় কাঠ বোঝায় ট্রলারের বৈধ কোন কাগজ পত্র না থাকায় আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর (সাগর) জাহাজের কমান্ডার জসিম উদ্দিন জানান- কাঠ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ শুল্ক গুদামে জমা দিয়ে আটক মিয়ানমার ৮ রাখাইন নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে আমদানীকারক মেসাস জিয়া এন্ড সন্স’র প্রো. আবু আহমদ জানান, বন্দর প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে আমরা মিয়ানমার থেকে কাঠ আমদানী করে আসছি। আটক কাঠের জন্য সকালে স্থলবন্দর ও কাষ্টমসে আইজিএম জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরও মিয়ানমার থেকে আসার পথে কাঠ বোঝাই ট্রলারটি নৌ-বাহিনী আটক করেছে।জানা যায়, কাঠ বোঝায় ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানীকারক আবু আহমদের কাছে আসছিল। কাঠ ও ট্রলারসহ মিয়ানমার মাঝি-মাল্লাদের আটক করায় বন্দর ব্যাবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
প্রতিনিয়ত মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থল বন্দরে কাঠসহ বিভিন্ন পন্য বোঝায় ট্রলার আমদানী হয়ে থাকে, আমদানীকৃত কাঠ যদি ছেড়ে দেওয়া না হয় তাহলে মিয়ানমারের সাথে আমদানী-রপ্তানী বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা মো:নুরে আলম জানান, মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত একটি কাঠের আইজিএম এর চালান জমা দেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারি ট্রলারটি নৌ বাহিনী আটক করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বন্দর দিয়ে কাঠ আমদানী হয়ে আসছে। হঠাৎ করে কাঠ জব্দ করা হলে বন্দরের ব্যবসা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টির পাশাপাশি সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে ।


















