ডাকসু নেতা সর্বমিত্রের ফাটাকেষ্ট গিরি

fec-image

ডাকসু নেতা সর্বমিত্রের ফাটাকেষ্ট গিরি আমাকে সত্যিই আতঙ্কিত করেছে। খালি চোখে দেখলে আপনার বিষয়টি রীতিমতো নির্বাচিত ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ারের মত মনে হতে পারে কিন্তু এর ভয়াবহতা ‘কু’গভীরে।

প্রথমত শিবির যে কাজটা তার ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য করতে পারে না সেই কাজে নেতৃত্ব দেন অন্য কাউকে। অনেকটা নেহরুভিয়ান আইডিয়লজি দিয়ে কাশ্মীরের নেতা শেখ আব্দুল্লাহকে যেভাবে পরাস্ত করা হয়েছিল! কিংবা ত্রিদিব রায়ের ভূমিকা দেখুন। ফেতনাবাজরা সব সময় কাটা দিয়ে কাটা তুলে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর /ন্যাশনাল মাইনরিটি ন্যায্যতা নিয়ে যখন সমাজের প্রগতিশীল অংশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব সর্বমিত্রকে দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে বিজেপির মতই জনপ্রিয়তাবাদী নেতা হবার স্বপ্নে বিভোর অনেকেই।

সংকট টা কোথায়? সংকটটা হল সিম্বলে। বাংলাদেশের একটা বড় সংখ্যক মানুষ আমাদের পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রতি গোপনে বা মনের অজান্তে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। অনেক ক্ষেত্রেই তা অজ্ঞতাবশত।

সর্বমিত্রের এই “দাদাগিরি” জাতিগত ঘৃণায় রূপান্তরিত করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে। যেমনটি শেখ হাসিনার মোসাহেবরা করেছিলেন দাড়ি, টুপি, কিংবা হিজাবের মধ্য দিয়ে। মনে আছে হলি আর্টিজানের সময় কেবলমাত্র পাঞ্জাবি পড়েছিলাম দেখে একজন সন্তান হারানো উচ্চবৃত্তের মা আমার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছিলেন। আমি তার কষ্ট বুঝতে পারি এবং দেখুন জামাত খুব কৌশলে সেই মানুষগুলোকে সংঘটিত করে আজকে বিজেপির পলিটিক্সটা রপ্ত করছে। বিজেপি যে বলতো সংখ্যাগুরু হিন্দু বিপদে আছে। আর জামাতের পলিটিক্স টা হল সংখ্যাগুরু মুসলমানও বিপদে আছে। শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গা বাঁধাতে সংখ্যাগুরুর রাজনীতি খুবই সাহায্য করেছিল।

রাশেদা কে চৌধুরীর গল্পটাই বলি। এ সুশীল প্রগতিশীলের সঙ্গে দেখা হলি আর্টিজেনের প্রথম বার্ষিকীতে। ভদ্রমহিলা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে বললেন আজকের যে সমস্যা তার জন্য মাদ্রাসায় শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট।

কথিত প্রগতিশীল সাংবাদিকরা তো মহা খুশি। আমি প্রশ্ন করলাম- হলি বেকারিতে হামলায় যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরে মারা গেছে তাদের পাঁচজনের তিনজনই কথিত সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। যারা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তাহলে মাদ্রাসাকে কেনো আপনি দোষারোপ করছেন?

প্রশ্ন শুনে তার গোলাপি মুখতা লাল হয়ে গেল। শেখ হাসিনার আরেক কট্টর সমর্থক ঢাবির তৎকালীন অধ্যাপক জিয়া। তিনি খুব কৌশলে মানসপটে ইসলামকে ঘৃণিত দেখাবার জন্য বলে বসলেন যারা ইনশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলে তারা কট্টরপন্থী।

একইভাবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর গুম থেকে ফেরত আসা সন্তান হুম্মাম কাদের চৌধুরী যখন চট্টগ্রামে মহাসমাবেশে নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার বলে মনের ভেতরের সব কষ্ট উগরে দিলেন আমার দেশের কথিত প্রগতিশীলরা ও আওয়ামী সুশীলরা তা ফ্রেম করলো পাকিস্তানি স্লোগান হিসেবে।

রীতির মত তাকে মাইনরিটি বানায় ফেলা হলো। আমি তখন আরো জোরে নারায় তাকবীর দিলাম আমার ফেইসবুকে। নিউওয়ার্কের মেট্রোতেও দিয়েছি। অন্তু ভাই অবশ্য তাড়াতাড়ি থামিয়েছে। কারণ জানি এভাবেই শত্রু বানানো হয়।

কাজ সম্পন্ন হলে সুন্দর নিরীহ চেহারার পেছনে লুকিয়ে থাকা ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ডাকসু নেতৃত্ব এমন সর্বমিত্রদের বিরুদ্ধে জাতিগত সৃষ্টি পায়তারা হবে। আর এটাই সংকট। বলতে পারেন কালেক্টিভ হেট তৈরি হবে।

যেমনটি স্বৈরাচারের উত্থানের পূর্বে শাপলা ও শাহবাগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। তখনও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যেসব অতি বিপ্লবী রহমান ব্রাদার্সরা এখনো সেই রহমান ব্রাদার্সের রাজনীতি চলছে। মাঝখান দিয়ে ফাঁদে পড়ে শেখ হাসিনা শেষ হাসিনা হয়ে গেছে।
যে কাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ন্যায্যতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা উচিত সেই দাদাগিরি করা সর্বমিত্র বা ফরহাদের কাজ নয়। মনে রাখবেন মস্তিষ্ক আইয়ুব খানকে রেখে গণতান্ত্রিক হওয়া যায় না।

সূত্র : সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদের ফেইসবুক স্ট্যাটাস, ৫ নভেম্বর ২০২৫

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ডাকসু, মুক্তমত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন