ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাহাড়ি শিক্ষার্থী পরিবারের মিলন মেলা সম্পন্ন

fec-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম থেকে ভর্তি হওয়া পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী মিলনমেলায় নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদেরকেও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

দিনব্যাপী উক্ত মিলন মেলার শুরুতেই ছিল ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জগন্নাথ হলের খেলার মাঠে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ১৩০ জনের অধিক বর্তমান পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত উক্ত মিলন মেলায় পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা একত্রে প্রীতি ভোজে মিলিত হয়। এর পর শুরু হয় ‘গেট-টুগেদার’ এর প্রীতি সহভাগীতা ও নবীণদের বরণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্তিময় চাকমা’র সঞ্চালনায় এবং মাস্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী লিটন চাকমা’র সভাপতিত্বে উক্ত আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। অনুভূতি ব্যক্ত করেন নবীণ শিক্ষার্থী বান্দরবান থেকে ভর্তি হওয়া সুয়ে সানু মারমা, নবজ্যোতি ত্রিপুরা এবং তনোয়া ম্রো। এছাড়াও পাহাড়ি শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগার অনুভূতি সহভাগীতা করেন নবীণ শিক্ষার্থী হেমা চাকমা।

এদিকে উক্ত আয়োজনে নবীণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাহাড়ি শিক্ষার্থী পরিবারের মাষ্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী সতেজ চাকমা। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিযোগীতাপূর্ণ লড়াই এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারার অনুভূতি নিশ্চয় আনন্দের। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যালয় বলা হয়, সেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে আমাদেরও সর্বোচ্চ দায়বোধ সম্পন্ন শিক্ষার্থী এবং নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে হবে। ফেলে শেকড়ের প্রতি আমাদের যে দায় সেটাকে ধারণ করতে হবে। আমরা যে পাহাড়ে বেড়ে ওঠে এই বিদ্যাপীঠে পড়ছি সেই পাহাড় যে ভালো নেই তা আমরা খুব সরলভাবেই অনুধাবন করতে পারি। আর তার জন্য আমাদের জোটবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে যেয়েই আমরা নানা ধরণের নিপীড়নের শিকার হই। এই রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদেরকে অপরাপর মূল স্রোতধারার শিক্ষার্থী, বন্ধুদের কাছে ইতিবাচকভাবে চিনিয়ে দিতে ব্যর্থ। তাই আমরাই আমাদেরকে এই দেশের গর্বিত অংশীদার বলে পরিচিত করবো। সে কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পথ চলার সময় আমরা পাহাড়ের এক একজন অ্যাম্বাসেডর হিসাবে কাজ করবো। তাছাড়া টিএসসি ভিত্তিক পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অপরাপর মূলধারার শিক্ষার্থীদের সাথে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ঘটানোর প্রয়াসে সামিল হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

এছাড়াও উক্ত আয়োজনে শুভেচ্ছা সহভাগীতা করেন মাস্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী সরল তঞ্চঙ্গ্য। এছাড়াও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আপ্লুটি চাকমা, তৃতীয় বর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিন চাকমা এবং চতুর্থ বর্ষের রিনাকি চাকমা প্রমুখ।

এদিকে উক্ত মিলন মেলায় নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল র‌্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন। সবশেষে উক্ত মিলনে-মেলার সভাপতি ও মাস্টার্সের সিনিয়র শিক্ষার্থী লিটন চাকমা’র সমাপনি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই মিলনমেলা সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য যে, এবছর পাহাড় থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক নবীন পাহাড়ি শিক্ষার্থী নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। পাহাড় থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়ুয়া পাহাড়ি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবমিলিয়ে দুই শতাধিক রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন