দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্যমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন


জাতীয় সংসদে রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপির পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং তাঁর মন্ত্রীত্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটি আসনে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দু’জন প্রার্থী পহেল চাকমা ও মো. আবুল বাশার নয়ন সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাঙামাটি জেলা শহরে একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী জুঁই চাকমা, জসীম উদ্দীন, অশোক তালুকদার এ সংবাদ সম্মেলনের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তাদ্বয় জানান।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর গতকাল ৩ জুন ফেইসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন দীপেন দেওয়ান। সেখানে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা রেখে বিএনপির সঙ্গে থাকার কথা বলেছেন।
বুধবার রাত ৯টার দিকে দীপেন দেওয়ান তার নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে করা এক পোস্টের মাধ্যমে এই বার্তা দেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে সালাম ও কুশল জানিয়ে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।
“আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখুন।”
তিনি লিখেন, “আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক- এটাই আমার প্রত্যাশা।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীপেন দেওয়ান লিখেন, “আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি যে, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা।
“আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।
“আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।”
দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
“মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়। আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক।”
“পরিশেষে বলতে চাই- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নেতৃত্বের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারো দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা”, বলেন তিনি।
শেষে সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন দীপেন দেওয়ান। পদত্যাগপত্রে কারণ হিসেবে স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা বলেছেন তিনি।
ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং একই দিনে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লেখা সেই পদত্যাগপত্রে বলা হয়, “দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাধিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
“বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।”
এক সময় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে সরকারি চাকরি করা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২০০৫ সালে চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘উপজাতিবিষয়ক’ উপদেষ্টা। রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
২০১০ সালে দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এখনো তিনি সেই দায়িত্বে আছেন।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্যমন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁর নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তার অংগ সংগঠনের নেতাকর্মী মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করছে।

















