নাইক্ষ্যংছড়িতে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশী নাগরিককে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার বিজিপি’র
নিখোঁজ ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলী সীমান্ত থেকে নিয়ে যাওয়া দুই ব্যাক্তির সন্ধান মেলেনি। তবে এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবী দুই জনই মিয়ানমারের বিজিপি অথবা সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছে।
নিখোঁজ ব্যাক্তিরা হলো- জয়নাল আবেদীন (২১) ও ছৈয়দ আলম (৪১)। তারা দুই জনই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়নের আশারতলী গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে গত সোমবার বিকালে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ও মিয়ানমারের বিজিপির মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে বুধবার দুপুরে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল আনিসুজ্জামান।
জানা গেছে, গত সোমবার সকালে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ৪৬-৪৭ নম্বর সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কাঠ সংগ্রহের জন্য যায় জয়নাল আবেদীনসহ তার দুই সহকর্মী। কিন্তু অর্তকিত মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়লে জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার দিন বিকাল ৫টায় রামু ৫০ বিজিবির নিয়ন্ত্রণাধীন আশারতলী বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার সালাম এর নেতৃত্বে একটি টহলদল সীমান্তে গেলে মিয়ানমারের বিজিপি বিনা উষ্কানীতে তাদের উপরও গুলি বর্ষণ শুরু করে।
ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় ছৈয়দ আলম ও তার অপর এক সহকর্মী উপযাচক হয়ে আগের দিনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতের জন্য ওই স্থানে গেলে পূর্বের দিনের ন্যায় মিয়ানমার বিজিপি তাদেরও গুলি চালায়। এ ঘটনায়ও ছৈয়দ আলম (৪১) নিখোজ রয়েছে। নিহত বা নিখোজ দুই পরিবারের বরাত দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবুল খায়ের জানান, পৃথক দুই দিনের ঘটনায় উপজেলার আশারতলী গ্রামের দুই ব্যাক্তি এখনো নিখোজ। তাদের পরিবারের ধারনা, এই দুই ব্যাক্তি মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষি বিজিপির গুলিতে মারা গেছে।
এদিকে পর পর দুই বার মিয়ানমারের বিজিপির গুলি বর্ষণ ও দুই বাংলাদেশী নাগরিক মারা যাওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড সত্যতা নিশ্চিত না করলেও দুই বাংলাদেশী সন্ধানে সহযোগিতা চেয়ে মিয়ানমারের বিজিপির কাছে যোগাযোগ করে চলছে বিজিবি। এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে বিজিবি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিবাদ করেছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশী দুই নাগরিকের উপর গুলি বর্ষণ ও তাদের দেহ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করার পর বিষয়টি বর্তমানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
সীমান্তে বসবাসরত এক নাগরিক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন- বুধবার দুপুরে দুই দেশের ঘটনাস্থল আশারতলীর বিপরীতে মিয়ানমারের ওপারে অবস্থিত চেনছড়ি ব্যাটালিয়নে চারটি সাজোয়া গাড়ি জড়ো হয়। যেখানে একটি লাশ পরিবহণের গাড়ি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পর নিখোজ বা মৃত ওই দুই ব্যাক্তিকে সীমান্তের সুবিধাজনক পয়েন্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হতে পারে।



















