Notice: Trying to get property 'post_excerpt' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 56

Notice: Trying to get property 'guid' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 58

নির্বাচন আসে নির্বাচন যায় কিন্তু ওদের দুঃখ শেষ হয় না

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আগামী ৩০ ডিসেম্বর রাঙামটি পৌরবাসীর বহুল প্রত্যাশিত দিন। কিন্তু কিছু মানুষের কাছে এর আলাদা কোনো মূল্য নেই, তাদের  সবদিনই এক। তাদের কাছে নির্বাচন আসলেই কি আর না আসলেই বা কি। তাদের কথা কেউ মনে রাখে না। কোন সময়েই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।

শহর ঘুরে দেখা গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাস্তাঘাট, পাড়া, মহল্লা, বৈদ্যুতিক খুটি, এমনকি যাহবাহনগুলো বাদ যায়নি। প্রচারণার শেষ দিনে প্রার্থীর প্রচারকারী মাইকের আওয়াজে ঢঙে ঢঙে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে ঝড় তুলে শেষ প্রচারণা চালিয়ে নিচ্ছেন। প্রার্থীরা তাদের শেষ প্রচারণায় ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া নিতে শেষ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের দোয়ারে দোয়ারে গিয়ে নিজেকে নিঃস্বার্থ ও জনদরদী বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং এলাকার, শহরের নানামূখি সমস্যা দূরসহ শহরের উন্নয়ন এবং বাসিন্দাদের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবেন। সোমবার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা।

প্রার্থীদের এমন প্রচারণা যখন তুঙ্গে তখন শহরের ভিক্ষুক মোঃ কাসেম মিয়া জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করছি, আজ পর্যন্ত কারো কাছ থেকে তেমন কোন সহযোগিতা পাইনি। এসব ভণ্ড নেতারা নির্বাচন আসলে জনদরদী, নিঃস্বার্থ, সমাজসেবার বুলি ছড়িয়ে বেড়ায়। ক্ষমতায় আসলে তারা এসি বাতাসের নিচে চলে যায়। তাদের সাথে দেখা করা তো দুরের কথা তাদের চামচাদের দৌরাত্ব কিংবা তাদের বাসায় গেলে তাদের বেগমদের চেচামেচিতে আমাদের আর নেতার মুখ দেখা হয় না’।

তিনি আরো জানান, আমরা ভোট দিলেই কি আর ভোট না দিলেই কি! যাদের ক্ষমতা ও টাকার জোর রযেছে তাদেরই জয় হবে। আমার মতো একজন ভিক্ষুক ভোট না দিলে কিছু আসে যায় না।

এইচটি হোসেন স’মিলের আবুল কাসেম নামক একজন দিনমজুর জানান, ‘ভোটের আমেজ দেখতে পাচ্ছি। এসময় আমাদের দিনমজুরের দাম প্রার্থীদের কাছে এত বেশি তাদের হাতের ছোঁয়ায় আমার হাত এবং পায়ের ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। আমাদের নোংরা পোশাক পড়া অবস্থায় জড়িয়ে ধরে সাথে নিয়ে গিয়ে বোনাস হিসেবে পাশে বসিয়ে এক কাপ গরম গরম চা ও চায়ের সাথে একটা টাও খাওয়ায়। আর বলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিন। তখন আমার নোংরা হাতখানা নেতার শ্যম্পু করা নরম চুলে হাত বুলিয়ে দেখি ময়লা সব নেতার মাথায় ঠাঁই করে নিয়েছে। তখন সমস্যা নাই বলে এক চিলতে হাসি দেয়। কিন্তু পরে এর উল্টো।’

মানুষের বাসায় ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন রহিমা বেগম। নির্বাচনের আমেজে ঘরের আবালবৃদ্ধবণিতা যখন উজ্জীবীত তখন রহিমা যায় বাসার কাজ করতে। নির্বাচনের ব্যাপারে রহিমা বেগম জানান, ‘দীর্ঘদিন মানুষের বাসায় কাজ করতে করতে মরণের সময় হয়ে গেছে। কত নির্বাচন দেখলাম, নেতারা বলে এটা দিবে,সেটা দিবে। নির্বাচন শেষ তাদের কথাও শেষ। তাদের আর চোখে পড়ে না। নির্বাচন যদি আমার ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতো তাহলে নির্বাচনের জোয়ার আমার গায়ে লাগতো’।

ত্রিদিব নগর এলাকার শান্তিময় চাকমা নির্বাচনের ব্যাপারে বলেন, (নির্বাচনত্ দাড়ান্নে মাজন মানুষচ্যানি, কারণ তাত্থোন বেগ টেঁয়া দরকার। নির্বাচন আমনত্ দুইখ্যা গরিব মানুষত নু-আছে। অনেক কইট্টে গুইনাই জুম চাষ গুইনাই পোয়া-সোয়ালই চলং) নির্বাচন করে বড় লোকেরা কারণ তাদের অনেক টাকার দরকার। আমার মতো গরীবের জন্য নির্বাচন আসে না। অনেক কষ্টে জুম চাষ করে ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্ট করে চলি।

কলেজ গেইট এলাকার ঠেলা গাড়ি চালক মমিন বলেন, ‘দিনে আয় করে দিনে খাই। রাত পোহালে বাচ্চাদের মুখের খাবার তুলে দেওয়ার জন্য ঠেলা গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়। তবে নির্বাচন আসলে খুব ভাল লাগে। রাতের অন্ধকারে যখন প্রার্থীরা গভীর রাতে বাসার মধ্যে এসে একহাজার টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে বলে আমাকে একটা ভোট দিয়ো। তখন মনে কত সুখ জাগে। পরিশ্রম ছাড়া রাতের ঘুমের মধ্যে একহাজার টাকা পাওয়া যায়। এভাবে অনেক প্রার্থী রাতের বেলায় এসে পাঁচশত টাকা, অনেকে একহাজার দিয়ে যায়। এটাই আমার কাছে নির্বাচন। নির্বাচন শেষ এক হাজার নোট পাওয়া শেষ। আবার ঠেলা গাড়ি নিয়ে বাচ্চার মুখে খাবার মুখে তুলে দেওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়তে হয়”।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন