পার্বত্যাঞ্চলে কৃষি-শিল্পপণ্য বাজারজাত সুবিধা গড়ে তোলার সুপারিশ টঙ্গার
স্টাফ রিপোর্টার:
পার্বত্যাঞ্চলের কৃষি-শিল্পপণ্য বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার ‘টংগ্যা’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত দিনব্যাপী এক সেমিনারে সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে এমন সুপারিশ জানানো হয়। এব্যাপারে পার্বত্য জেলা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরী।
সকাল ১১টায় টংগ্যার সম্মেলন কক্ষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারপারসন ও চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংগঠক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টংগ্যার ডেভেলপমেন্ট রিসোর্স সেন্টার (ডিআরসি) প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর সুকান্ত চাকমা এবং প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পের টিম লীডার স্বাগত ধর।
সেমিনারে বলা হয়, পার্বত্য এলাকায় যেমনি কৃষিজ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পজাত পণ্যের উৎপাদন সহজ তেমনি দেশে এসব পণ্যের চাহিদাও প্রচুর। কিন্তু সুষ্ঠু বাজারজাত, সংরক্ষণ ও পরিবহনের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় উৎপাদনকারীরা প্রকৃত মূল্য পান না। ফলে তারা এসব পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন না। অথচ সুষ্ঠু বাজারজাত, সংরক্ষণ ও পরিবহনের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকলে এখানকার উৎপাদিত কৃষিজ, বনজ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্যের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হতো। এ লক্ষ্যে প্রয়োজন সুষ্ঠু বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা গড়ে তোলা এবং এসব পণ্য সংরক্ষণের জন্য আড়ত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-কারখানা। কিন্তু বিনিয়োগ ও উদ্যোগের অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, কৃষক ও উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় উপকরণাদি সরবরাহ, কালেকশন সেন্টার স্থাপন এবং স্থানীয় ও বাইরে পরিবহনসহ বাজারজাতের সুবিধা গড়ে তোলা গেলে এসব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উপার্জন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হতো। পাশাপাশি সুষ্ঠু সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে আড়ত ও প্রক্রিয়াজাকরণ শিল্প-কারখানা স্থাপন দরকার। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য জেলা পরিষদসহ সরকারি এবং বেসরকারি কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ জানান তিনি।



















