“নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশংকায় পাহাড়ী নেতৃবৃন্দ আগামী প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে দিতে ভয় পায়”

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পার্বত্যবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল উল্লেখ করে সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে রাংগামাটি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ। পাশাপাশি বিবৃতিতে রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম বন্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়ার দৃড় প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়।
রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পার্বত্যাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী লাখো শিক্ষার্থীর প্রানের দাবী উল্লেখ করে বলা হয়, ৬ লক্ষাধিক মানুষের আবাস রাংগামাটি পার্বত্য জেলা। এখানে না ছিল উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন মেডিক্যাল কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়, না ছিল একটু উন্নত কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা। অথচ এ দুটোই একজন মানষ হিসাবে আমাদের মৌলিক অধিকার। তাই পার্বত্যবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার একটি ব্যবস্থা হোক, কেননা একটু গুরুতর পেটে ব্যাথা হলেই কিংবা প্রসব বেদনায় কাৎরানো একজন মা চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায় শত কিলোমিটার পাহাড়-জঙ্গল পেড়িয়ে দৌড়াতে হত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে। আজ পূরণ হলো আমাদের সেই প্রত্যাশা। আনন্দের ফুলঝুড়ি ফুটলো লাখো মানুষের অন্তরে।
বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, লাখো পার্বত্যবাসী যখন আনন্দে উদ্বেলিত তখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে লাগলো একটি কুচক্রী গোষ্ঠি। শংকিত হয়ে উঠলো তারা। তাদের আশা এ অঞ্চলের আপামর জনতাকে অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত রেখে তারা তাদের আখের গুাটিয়ে নিবে। তারা চায়না আম জনতার মধ্যে উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ুক, ছড়িয়ে পড়ুক সভ্যতার আলোকচ্ছটা।
আর সে কারণেই স্বার্থান্বেষী মহলটি চক্রান্ত শুরু করলো মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে। হুমকি-ধমকি দিয়ে বাধ্য করতে চাইলো এ অঞ্চলের কিছু নিরপরাধ-নিরীহ মানুষকে তাদের সুরে সুর মেলাতে। অথচ যারা এ দাবী নিয়ে রাস্তায় নেমেছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষিতের দাবীদার। তাদের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশংকায় তারা এ জনপদের আগামী প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে দিতে ভয় পায়। সভ্য জাতি হিসাবে এহন কর্মকাণ্ড আমাদেরকে হতবাক করেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) পার্বত্যবাসীর আনন্দের দিন হিসাবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ১০ জানুয়ারী’১৫ পার্বত্যাঞ্চলের আপামর শান্তিকামী জনতার জন্য এক আনন্দের দিন। শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে রাংগামাটি মেডিক্যাল কলেজ-এর। চুড়ান্ত রূপ লাভ করতে যাচ্ছে আমাদের সংগ্রাম। আজকের এই শুভক্ষণে আমাদের প্রত্যাশা- “নিপাত যাক শিক্ষা ধ্বংসের পক্ষের ষড়যন্ত্রকারীরা, অনাগতকাল ধরে এভাবেই বিজয়ী হোক গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন”।
তাদের দীর্ঘদিনের এ দাবী পূরণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে। আরো ধন্যবাদ জানাচ্ছি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পার্বত্যচট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী, স্থানীয় এমপি, সরকারী দল ও বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আপমর ছাত্র-জনতাকে যারা আমাদের প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে আমাদের দাবী আদায়ের এই সংগ্রামকে বেগবান করেছেন।
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় রাংগামাটি মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে বলা হয়, প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই পার্বত্যাঞ্চলের লাখো জনতার সমর্থন লাভ করে সংগ্রাম পরিষদ দিতে থাকে একের পর এক কর্মসূচি। মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগ, স্বাক্ষর সংগ্রহসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে চালাতে থাকে ষড়যন্ত্রকারীদেরকে প্রতিহত করার আন্দোলন। এর ধারাবাহিকতায় বিগত ২ সেপ্তেম্বর’১৪ রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশ। প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন জানানো হয় মেডিক্যাল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্বািবদ্যালয় দ্রুত বাস্তবায়নের। আশ্বস্ত করা হয় জনগনকে সাথে নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগের পাশে থাকার।
পার্বত্যবাসীকে আহবান জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, আমাদের প্রত্যাশিত একটি দাবী চুড়ান্ত রূপ লাভ করলেও আরেকটি দাবী অর্থ্যাৎ রাংগামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও চুড়ান্ত রূপ লাভ করেনি। তাই আপনাদেরকে সাথে নিয়ে করা আমাদের সংগ্রাম চলবে। প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। চলতে থাকবে অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের, অশিক্ষার বিরুদ্ধে শিক্ষার এই আন্দোলন। অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর এই সংগ্রামে আমরা আপনাকে আরও সক্রিয় ও বজ্রকঠোর দেখতে চাই। আপনাদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ এই সংগ্রামকে তার মঞ্জিলে মকসুদে পৌছাতে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে, এই আমাদের আন্তরিক বিশ্বাস।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয় বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলা হয়, এটি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সোনার বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোন ব্যক্তি কিংবা অন্যায়ভাবে সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তিবর্গ যদি মনে করে তাদের অংগুলি হেলনে এই অঞ্চলের গণমানুষের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তবে আমরা মনে করি তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। পার্বত্যবাসীর নিকট আবেদন, আসুন সম্মিলিতভাবে রুখে দিই এ অপতৎপরতা, ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করি আমাদের মৌলিক অধিকার, কেননা সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত, সত্যের জয় হবেই হবে।
সংগ্রাম পরিষদের আহবায়কের জাহাঙ্গীর আলম মুন্না দাবী আদায়ে যারা সহযোগীতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমাদের দাবী আদায়ের দীর্ঘ দিনের সংগ্রাম আজ সফলতার মুখ দেখতে পেয়েছে। সেজন্যে আমার এবং সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের জন্য রইলো আন্তরিক অভিনন্দন। পার্বত্যবাসীর অন্যান্য মৌলিক অধিকার যা আজও বাস্তবায়ন হয়নি একে একে তা বাস্তবায়ন হবে আজকের দিনে এই প্রত্যাশাই করছি।
সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজের বিরোধীতাকারীদের সমালোচনা করে বলেন, পৃথিবীর বহু দেশেই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির পক্ষ থেকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম হতে শুনেছি কিন্তু কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের মত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিরোধীতা করার কোন ইতিহাস বিশ্বে কোথাও আছে কিনা তা আমার জানা নেই।
উল্লেখ্য, এ অঞ্চলের বঞ্চিত মামুষের হাহাকার শুনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে রাঙামাটি সফরকালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বহু প্রত্যাশিত রাংগামাটি মেডিক্যাল কলেজ এর এবং সেই সাথে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এ রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর।


















