পাহাড়ে ৩০৬ একর অবৈধ পপি ক্ষেত ধ্বংস করলো নিরাপত্তা বাহিনী

fec-image

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থার সমন্বয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে রাজ্যের পার্বত্য কাংপোকপি জেলায় ৩০৬ একরেরও বেশি অবৈধ পপি চাষের জমি উজাড় করে দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে অংশ নেয় আসাম রাইফেলস, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ), মণিপুর পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি) এবং রাজ্য বন বিভাগ। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অভিযানে পপি চাষিদের তৈরি ৪৩টি অস্থায়ী কুঁড়েঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা স্প্রে পাম্প, পাইপ, লবণ ও কীটনাশক ধ্বংস করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ধ্বংস করা এসব পপি ক্ষেত থেকে প্রায় ২ হাজার ৮০ কেজির বেশি আফিম উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল, যার অবৈধ বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরিচালিত পৃথক অভিযানে সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস, সিআরপিএফ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), এনসিবি ও মণিপুর পুলিশের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন পাহাড়ি জেলায় এক হাজার একরের বেশি অবৈধ পপি চাষ ধ্বংস করা হয়।

অবৈধ এই চাষাবাদ মূলত কাংপোকপি, উখরুল, তামেংলং, চান্দেল, টেংনোপাল ও সেনাপতি—এই ছয়টি পার্বত্য জেলাজুড়ে বিস্তৃত ছিল। কর্মকর্তাদের মতে, মাত্র দুই মাসে এক হাজার একরের বেশি পপি ক্ষেত ধ্বংসের ফলে প্রায় ৯ হাজার কেজি আফিম উৎপাদন রোধ করা সম্ভব হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা।

মণিপুরের রাজ্য সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মণিপুর সরকারের ঘোষিত ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবে বিগত কয়েক বছরে সরকারি ও বনভূমিতে অবস্থিত শত শত একর অবৈধ পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয়েছে। ২০২০ সালে রাজ্যে মোট ৮ হাজার ৫৭ একর পপি চাষ চিহ্নিত হলেও এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯৫ একর ধ্বংস করা হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে এই চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমন্বিত কৌশলের সাফল্য বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র জানান, আসাম রাইফেলস মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পপি চাষি, সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভারত–মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবৈধ পপি চাষ সম্পূর্ণ নির্মূলে বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উৎস : দ্য আসাম ট্রিবিউন (১৮ জানুয়ারি ২০২৬)

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আসাম, মণিপুর, মাদক চাষাবাদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন