আসাম-নাগাল্যান্ড সীমান্তে বনভূমি দখল নিয়ে উত্তেজনা

fec-image

ভারতের আসামের জোড়হাট জেলার মারিয়ানি এলাকায় আসাম-নাগাল্যান্ড সীমান্তে বনভূমি দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নাগাল্যান্ডের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে গেলো বছরের জুন মাস থেকে তারা আসামের সংরক্ষিত বনভূমি দখল করার চেষ্টা করছে এবং সেখানে বসতি স্থাপন ও রাবার বাগান প্রতিষ্ঠা করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দ্য আসাম ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগা বসতির সদস্যরা এই অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে, মূল্যবান গাছ কেটে ফেলছে এবং সেখানে বসতি স্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নিউ সোনোয়াল রেঞ্জ থেকে মাত্র ২.৫ কিলোমিটার দূরে জমি দখল করা হয়েছে, অথচ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বাধ্য হয়ে এটি নীরবে দেখছি।

অভিযোগ উঠেছে যে, বনভূমি দখল এবং বন ধ্বংসের বিষয়ে বারবার প্রশাসনকে অবহিত করা সত্ত্বেও, বন বিভাগ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে হাত জোড়ে বসে আছেন। যদিও বারবার বলা হয়েছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।

মারিয়ানি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই সংরক্ষিত বনভূমি দখল হয়ে আসছে এবং এই অঞ্চলে উন্নয়ন কাজের নামে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। দিসোই উপত্যকা ও তিরু পাহাড়ের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই দখল হয়ে গেছে, যেখানে রাবার ও চা বাগান স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ আছে যে, আসাম সরকার বনভূমি পুনরুদ্ধারে সেভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

গেলো বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, সেউজির গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন যে নাগাল্যান্ড প্রশাসন গ্রামের মধ্যে ভূমি জরিপ চালিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তবে, স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়নি।

নাগাজাংকা গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পূর্বে যে কৃষি জমিতে তারা চাষাবাদ করতেন, তা এখন রাবার বাগানের জন্য দখল হয়ে গেছে।

এমনকি বারবার আন্তঃরাজ্য আলোচনা এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে সীমান্ত চুক্তি সত্ত্বেও, ভূমি দখল প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে দখলদারির উদ্বেগ এবং উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আসাম, নাগাল্যান্ড, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন