বান্দরবানে শাসক দলের নেতৃবৃন্দের ইন্ধনে সন্তু লারমার গাড়ী বহরে হামলা হয়েছে- জেএসএস

জনসংহতি সমিতি

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বান্দরবানে জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার গাড়ী বহরে আওয়ামী লীগের বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মুজিবুল হক এবং বান্দরবান জেলা সেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক ও বান্দরবান পৌর মেয়র জাবেদ রেজার ইন্ধনে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি।  বুধবার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

“পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার পূর্ব-নির্ধারিত বান্দরবান সরকারী সফরকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে তথাকথিত ‘জাগো পার্বত্যবাসী’ এর ব্যানারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী সন্ত্রাসী এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কর্তৃক বান্দরবান জেলায় বুধবার থেকে ৭২ ঘন্টার হরতাল আহ্বান করা হয় এবং বুধবার বান্দরবান যাওয়ার পথে বান্দরবান সদর উপজেলার বালাঘাটা নামক স্থানে শ্রী লারমার গাড়ী বহরের উপর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এক সংঘবদ্ধ ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়।

উক্ত হামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বান্দরবান সদর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক পুছোথোয়াই মারমা (৪০), পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বান্দরবান জেলা শাখার সদস্য পরিমল চাকমা (২৩), পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের লেমুছড়ি শাখার সদস্য স্বপন তঞ্চঙ্গ্যা, জনসংহতি সমিতির কুয়ালং ইউপি শাখার সদস্য মংবাথোয়াই মারমা (৫২), পিসিপির বালাঘাটা শাখার সদস্য রকি তঞ্চঙ্গ্যা এবং জনসংহতি সমিতির সদস্য রামবাবু মারমা (৬০) গুরুতরভাবে আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুছোথোয়াই মারমার মাথায় ও শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতরভাবে জখম করা হয়।

জানা যায় যে, শ্রী লারমার গাড়ী বহর বান্দরবান শহরের বালাঘাটা এলাকায় পৌঁছলে বহরের সবচেয়ে পেছনে থাকা একটি জীপ (চাঁদের গাড়ি) ও দু’টি মটর সাইকেলের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ হামলার সন্ত্রাসীরা একটি মটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মুজিবুল হক এবং বান্দরবান জেলা সেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক ও বান্দরবান পৌর মেয়র জাবেদ রেজার ইন্ধনে আবিদুর রহমান, কামাল উদ্দিন, নুরুল আলম, গোলাম সারোয়ার, আবদুল জলিল, সিরাজ খলিফা ও ইয়াসমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয় বলে জানা যায়।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এ ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং সেই সাথে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অচিরেই গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং আহত ব্যক্তি যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানাচ্ছে।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন