ভাইবোনছড়ার দূর্গমে হামে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় সেনাবাহিনী

fec-image

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও পানছড়ি উপজেলার প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন। এই ইউপির আওতাধীন রয়েছে অনেক দূর্গম এলাকা। যেসব এলাকায় আজো লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। বিশেষ করে খাবার পানি ও চিকিৎসা সেবায় তারা অনেক পিছিয়ে।

বেশির ভাগ মানুষ ছরা ও কুয়োর পানিই পান করে আর চিকিৎসা ক্ষেত্রে বৈদ্যালি ও কবিরাজির উপর রয়েছে তাদের অন্ধ বিশ্বাস। এলাকার কোমলমতি শিশুদের আনা হয়নি টিকার আওতায়। এটাকে তারা ভাবতো অপচিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

অবশেষে এলাকার রবিধন, আলমনি, শ্যামবাড়ি, নবকুমার, শিবমন্দির, সুদন্যা কার্বারী, তৈসা খামার, জ্রাইমা ও ভেজাচন্দ্র কার্বারী পাড়ার প্রায় শতাধিক শিশুর মাঝে দেখা দিয়েছে হামের প্রকোপ। হামে আক্রান্ত এসব পরিবারের মাঝে চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল)  সকাল থেকেই দুর্গম রবিধন পাড়া এলাকায় খাগড়াছড়ি জোনের সার্বিক সহযোগিতায় হামে আক্রান্তসহ প্রায় শতাধিককে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জোনের উপ: অধিনায়ক মেজর চৌধুরী মোহাম্মদ ফাহিম আশরাফী ও লে. মো. ফাহিম ফয়সাল সামিন। খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের অধিনস্থ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: অগ্নিভ চাকমা তুর্য ও ডা: মিল্টন ত্রিপুরা দিয়েছে চিকিৎসা সেবা। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে বিনামূল্যে ঔষধ। সেনাবাহিনী বিতরণ করেছে দুই শতাধিক মাস্ক।

ডা: মিল্টন ত্রিপুরা জানান, এই দুর্গম এলাকার মানুষ অসেচতন। ভীতি কাজ করে বলে টিকা দেয় নাই। তাছাড়া দুরত্বও বেশী বিধায় এসব এলাকায় প্রচারণা ও সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা জানান, কবিরাজি চিকিৎসায় আজো তারা অন্ধ বিশ্বাসী। এসব কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

খাগড়াছড়ি জোনের উপ: অধিনায়ক মেজর চৌধুরী মোহাম্মদ ফাহিম আশরাফী জানান, হামে সাজেকে কয়েক শিশু মারা গেছে দীঘিনালায় অসুস্থ হয়েছে অনেক। যেহেতু এলাকাটি দূর্গম, যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনুন্নত তাই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ডাক্তাদের আসা-যাওয়াসহ স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করেছি। করোনার পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতেই আমরা এগিয়ে এসেছি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পানছড়ি, ভাইবোনছড়া, সেনাবাহিনী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন